১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৭

অবসরের ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো  © টিডিসি ফটো

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী ৩৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো অবশেষে ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি এখন কোচিং পেশায় যুক্ত হতে চান বলে আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। 

২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৯৬টি ম্যাচ খেলা এই তারকা গোলরক্ষক ছিলেন আকাশী-নীল শিবিরের আস্থার প্রতীক। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় তিনি পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যদিও এই তিন টুর্নামেন্টেই রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে ২০১৪ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে তিনি ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন।

২০১৮ বিশ্বকাপের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত চোটে পড়ায় সেবার আর বিশ্বমঞ্চে নামা হয়নি রোমেরোর। সেই বছরের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার আর সুযোগ পাননি তিনি। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে একের পর এক চোট এবং পারফরম্যান্সের ক্রমাবনতিতে অবসরের ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনা জুনিয়র্স ক্লাব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ছিলেন এবং অবশেষে ফুটবল থেকে চূড়ান্ত বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিলেন।

রোমেরোর ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল রেসিং ক্লাবের যুব দল থেকে। ২০০৬ সালে এই ক্লাবের হয়েই সিনিয়র ফুটবলে তার অভিষেক হয়। এরপর ইউরোপের ফুটবলে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব এজেড আলকামার ও ইতালির সাম্পদোরিয়ায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। মাঝে এক মৌসুম ধারে খেলেছেন মোনাকোয়। 

তার ক্যারিয়ারের অন্যতম দীর্ঘ অধ্যায় ছিল ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেখানে মূলত দাভিদ দে হেয়ার ব্যাকআপ হিসেবে থাকলেও নিবেদন এবং পারফরম্যান্স দিয়ে সমর্থকদের মন জয় করেছিলেন। প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ কম পেলেও এফএ কাপ ও লিগ কাপে তিনি ছিলেন অসাধারণ; সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইউনাইটেডের হয়ে ৬১ ম্যাচে ৩৯টিতেই নিজের জাল অক্ষত রেখেছিলেন রোমেরো।

ইউরোপ অধ্যায় শেষে এক বছর ভালেন্সিয়ায় খেলে ২০২২ সালে তিনি যোগ দেন বোকা জুনির্সে। ক্লাব ফুটবলে বিভিন্ন শিরোপা জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও তার সাফল্যমণ্ডিত অর্জন রয়েছে। ২০০৭ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জেতার পর ২০০৮ সালে অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন তিনি। বর্ণাঢ্য এই ক্যারিয়ারের ইতি টেনে রোমেরো এখন ফুটবলের নতুন কোনো অধ্যায়ে নিজেকে জড়াতে প্রস্তুত হচ্ছেন।