০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭

হার্ট ভাল রাখতে কীভাবে রসুন খাবেন, জানালেন চিকিৎসক

রসুন খাওয়ার উপকারিতা   © টিডিসি ছবি

হার্ট ভাল রাখতে সকালে এক কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে গোটা রসুনের কোয়া গিলে ফেললেই কি মিলবে কাঙ্ক্ষিত উপকার? চিকিৎসক কুণাল সরকার বলছেন, রসুন হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও এটি খাওয়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এক কোয়া গোটা রসুন খেলে প্রত্যাশিত উপকার নাও মিলতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে দিন দিন বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াও এখন অনেকের নিত্যদিনের সমস্যা। এসব নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে উপকারী খাবারের তালিকায় রসুনও রয়েছে বলে জানান চিকিৎসক কুণাল সরকার। তিনি বলেন, ‘রসুনের মধ্যে থাকে অ্যালিন। রসুন কাটার পর তার মধ্যে অ্যালিসিন নামক একটি সক্রিয় ‌যৌগ তৈরি হয়। এই অ্যালিসিন এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে গোটা কোয়া রসুন খেলে সেই উপকার পাওয়া যায় না। অনেক গবেষণায় বলা হয়েছে অ্যালিসিন রক্ত পাতলা রাখতে সাহায্য করে। তবে রক্ত পাতলা রাখতে হলে যে পরিমাণ অ্যালিসিন লাগবে তা খাওয়ার জন্য হার্টের রোগীকে সারা দিনে দু’টো গোটা রসুন খেতে হবে, এক কোয়া রসুনে কাজ হবে না।’

চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, রসুনের অ্যালিসিন পেতে হলে রসুন কেটে খাওয়া বেশি কার্যকর। কারণ রসুন কাটার পরই অ্যালিন থেকে অ্যালিসিন তৈরি হয়। তবে রসুন খাওয়াকে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নেওয়া যাবে না।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রসুন খাওয়া কতটা কার্যকর—এমন প্রশ্নের জবাবে কুণাল সরকার বলেন, রসুন হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও এটি কখনোই হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

তিনি বলেন, ‘রসুন হার্টের জন্য উপকারী। রসুন কখনওই হার্টের অসুখের বিকল্প হতে পারে না। ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি রোজ এক, দু’কোয়া রসুন কেটে খেতেই পারেন। তাতে ক্ষতি নেই।’

অর্থাৎ হার্টের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রসুন রাখতে পারেন। তবে শুধু রসুন খেয়ে হৃদ্‌রোগ নিয়ন্ত্রণ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। সুস্থ থাকতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, সুষম খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করাও জরুরি।