২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৯

পেট ফাঁপা-ওজন কমাতে প্রতিদিন পান করতে পারেন এই চা

আদা চা   © সংগৃহীত

খাওয়ার পর পেট ভার, পেট ফাঁপা কিংবা বদহজমে অস্বস্তি—নিত্যদিনের এসব সমস্যা অনেকেরই হয়। এর সঙ্গে যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও থাকে, তাহলে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক কাপ আদা চা যোগ করতে পারেন। গবেষণায় হজমে আদার সম্ভাব্য উপকারের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও এর কিছু ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পেটের অস্বস্তি দূর করতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে অনেকেই আদা চা পান করেন। তবে আদার উপকারিতা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আদা হজমে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া কিছু গবেষণায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও আদার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আদা চা যোগ করার কথা ভাবলে এর উপকারিতা এবং কখন পান করা ভালো, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে।

হজমের গতি বাড়াতে পারে আদা

আদাকে হজমের জন্য উপকারী মনে করার অন্যতম কারণ হলো, এটি পাকস্থলীতে খাবার কত দ্রুত পরিপাকতন্ত্রের পরবর্তী অংশে পৌঁছায়, সেই গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি’-তে প্রকাশিত একটি ছোট পরিসরের র‍্যান্ডমাইজড, ডাবল-ব্লাইন্ড গবেষণায় দেখা গেছে, ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাকস্থলী থেকে খাবার দ্রুত খালি হতে আদা উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করেছে। তবে গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পাননি।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. আশুতোষ গৌতমও আদা চাকে হজমের জন্য উপকারী পানীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি পাকস্থলীর নড়াচড়া বা গ্যাস্ট্রিক মোটিলিটি বাড়াতে পারে এবং হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

পেট ফাঁপা ও ভারীভাব কমাতে পারে

খাওয়ার পর যদি পেট ভার হয়ে থাকে বা অস্বস্তিকরভাবে পেট ফেঁপে যায়, তাহলে আদা কিছুটা উপকার করতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়ায় আদার প্রভাব এর অন্যতম কারণ হতে পারে।

২০১১ সালে ১২৬ জন ফাংশনাল ডিসপেপসিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। এতে দেখা যায়, আদা ও আর্টিচোকের নির্যাস দিয়ে তৈরি একটি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, পেট ভরা অনুভূতি এবং পেটের ওপরের অংশের ব্যথার মতো উপসর্গ প্লাসিবো গ্রহণকারীদের তুলনায় বেশি কমেছে।

তবে মনে রাখা জরুরি, ওই গবেষণায় শুধু আদা চা ব্যবহার করা হয়নি। সেখানে আদা ও আর্টিচোকের সমন্বয়ে তৈরি একটি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। তাই এই গবেষণার ফলাফল থেকে ঘরে তৈরি এক কাপ আদা চা একই ধরনের উপকার করবে—এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

আদা চা কি সত্যিই ওজন কমাতে সাহায্য করে?

এখানে বিষয়টি একটু সতর্কভাবে দেখা দরকার। আদা চা নিজে কোনো ওজন কমানোর চিকিৎসা নয়। তবে আদার সাপ্লিমেন্ট নিয়ে করা কিছু গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।

২০২৫ সালে ‘কমপ্লিমেন্টারি থেরাপিজ ইন মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে কোমরের পরিধি এবং শরীরের চর্বির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তবে এতে সামগ্রিক শরীরের ওজন বা বিএমআই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যাভ্যাসে আদা চা রাখা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে চর্বি গলানোর বা দ্রুত ওজন কমানোর পানীয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

সকালে নাকি রাতে, কখন আদা চা পান করবেন?

আদার হজম বা ওজন নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রভাবের ক্ষেত্রে সকাল ও রাতের মধ্যে কোন সময়টি বেশি কার্যকর—এমন শক্ত প্রমাণ এখনো নেই।

তবে নিয়মিত আদা চা পান করতে চাইলে খাবারের পর অথবা সাধারণত যে সময়ে হজমের সমস্যা বা পেটের অস্বস্তি অনুভব করেন, সে সময় পান করতে পারেন।

রাতে আদা চা পান করলে কালো চা পাতার পরিবর্তে শুধু আদা দিয়ে তৈরি হালকা পানীয় বেছে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ক্যাফেইন আপনার ঘুমে সমস্যা তৈরি করলে রাতে কালো চা দিয়ে তৈরি আদা চা এড়িয়ে চলতে পারেন।

আরও হালকা ও সহজ বিকল্প হিসেবে গরম পানিতে কয়েক টুকরো তাজা আদা দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে অতিরিক্ত চিনি বা মধু না দেওয়াই ভালো।