ফ্যাটি লিভার নিরাময়ে সকালে খেতে পারেন এই ৭ খাবার
ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে দিনের শুরুতে কী খাচ্ছেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। সঠিক খাবার বেছে নিলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই সকালের নাশতায় পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে। অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তার লিভারে ফ্যাট জমছে। তাই শুরু থেকেই খাবার ও জীবনযাপনে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
এমস ও হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট সৌরভ শেট্টী ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে সকালের নাশতায় কয়েক ধরনের খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো সরাসরি রোগ সারিয়ে দেয় না, তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে লিভারের অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে সহায়তা করতে পারে।
১. বাদাম ও বেরি দিয়ে চিয়া পুডিং: আগের রাতেই চিয়া পুডিং তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। সকালে এর সঙ্গে বাদাম ও বেরি যোগ করে খেলে সহজেই পুষ্টিকর নাশতা হয়ে যাবে।
২. বাদাম ও বেরি দিয়ে টক দই: সকালের নাশতায় টক দইয়ের সঙ্গে বাদাম ও বেরি খেতে পারেন। বাড়িতে তৈরি দই হলে ভালো। তবে দইয়ে বাড়তি চিনি না মেশানোই ভালো।
৩. বেরি, ওয়ে প্রোটিন ও ওটস: ওটসের সঙ্গে ওয়ে প্রোটিন মিশিয়ে তার ওপর বেরি ছড়িয়ে খেতে পারেন। এতে একসঙ্গে প্রোটিন, ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি পাওয়া যায়।
৪. সবজি দিয়ে অমলেট: ডিমের সঙ্গে পালংশাক, মাশরুম, টমেটো, পেঁয়াজ ও ক্যাপসিকাম মিশিয়ে অমলেট তৈরি করতে পারেন। রান্নার জন্য অ্যাভোকাডো তেল বা সর্ষের তেল ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
৫. মুগ ডালের চিলা: মুগ ডাল ভিজিয়ে বেটে প্যানকেকের মতো করে চিলা তৈরি করা যায়। এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি মিশিয়ে নিতে পারেন। মুগ ডালে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও ফাইবার থাকায় এটি সকালের নাশতায় ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। চাইলে পুদিনার চাটনি বা দইয়ের সঙ্গে খেতে পারেন।
৬. অ্যাভোকাডো টোস্ট: ১০০ শতাংশ গোটা শস্যের পাউরুটির ওপর অ্যাভোকাডোর শাঁস মাখিয়ে খেতে পারেন। এটি সহজে তৈরি করা যায় এবং সকালের নাশতায় পুষ্টিকর একটি বিকল্প হতে পারে।
৭. সবজি দিয়ে টোফু ভুর্জি: টোফু ছোট টুকরো করে ভেজে এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি যোগ করতে পারেন। খাবারটিতে হলুদগুঁড়া ও গোলমরিচ দিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি প্রদাহ কমাতে সহায়ক উপাদানও যোগ হবে।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদসূত্রঃ আনন্দবাজার