০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০২

শিঙাড়া-সমুচা দেখলেই লোভ সামলানো দায়, জেনে নিন সহজ সমাধান

ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ   © সংগৃহীত

অস্বাস্থ্যকর জেনেও অনেকেই শিঙাড়া, সমুচা, চপ বা অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেন। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা ও লিভারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে জোর করে এসব খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে এই লোভ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সন্ধ্যার দিকে অনেকেরই তেলেভাজা, ফুলুরি, শিঙাড়া বা চাউমিন খেতে ইচ্ছা করে। খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পেট ফাঁপা, অম্বল বা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেও পরদিন আবার একই খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরের ভাজাপোড়া নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে ওজন বাড়ার পাশাপাশি লিভারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু ইচ্ছাশক্তির ওপর ভরসা না করে কিছু কৌশল অনুসরণ করলে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

প্রথমত, কোনো খাবার একেবারে নিষিদ্ধ না করে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জোর করে কোনো খাবার বাদ দিলে সেটির প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যেতে পারে। শিঙাড়া বা চপ খেতে ইচ্ছা করলে বিকল্প হিসেবে ছোলামাখা, বাদাম, ঢোকলা বা সেদ্ধ ভুট্টার মতো তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত ক্ষুধাও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। তাই সকাল থেকে নির্দিষ্ট সময় মেনে খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকেলের হালকা নাশতায় পর্যাপ্ত আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে সন্ধ্যায় তেলেভাজা খাওয়ার প্রবণতা কমে।

লোভ লাগলে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়াও কার্যকর হতে পারে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, বই পড়া কিংবা অন্য কোনো পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ কমে। এ সময় এক কাপ চা বা কফিও অনেকের ক্ষেত্রে মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে সেটির সম্ভাব্য ক্ষতির কথা ভাবার পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত এভাবে আত্মসচেতনতা তৈরি হলে ধীরে ধীরে খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, মন খারাপ বা অবসাদ থেকেও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত প্রাণায়াম বা অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা উপকারী হতে পারে।