ভাত খেলেই কী ভুঁড়ি বাড়ে? যা জানালেন পুষ্টিবিদ
ভুঁড়ি কমাতে অনেকেই সবার আগে ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন। তাদের ধারণা, ভাতই পেটের মেদ বাড়ানোর প্রধান কারণ। কিন্তু সত্যিই কি ভাত খাওয়ার কারণেই ভুঁড়ি হয়? এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ। তার মতে, শুধু ভাত নয়, বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণই ওজন ও ভুঁড়ি বাড়ার মূল কারণ।
ভুঁড়ি নিয়ে অনেক পুরুষই দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাদের অনেকের বিশ্বাস, পেটের অতিরিক্ত মেদ শুধু সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। তাই ভুঁড়ি কমাতে কেউ ব্যায়াম করেন, কেউ খাদ্যাভ্যাস বদলান, আবার কেউ বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ওজন কমানোর উপাদানও ব্যবহার করেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন।
ভুঁড়ি কমানোর সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর একটি হলো ভাত খাওয়া বন্ধ করা। অনেকের বিশ্বাস, খাদ্যতালিকা থেকে ভাত বাদ দিলেই পেটের মেদ কমে যাবে। এ কারণে অনেকে নিয়মিত ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন।
তবে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষ বলেন, ওজন বা ভুঁড়ি বাড়ার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবারকে দায়ী করা ঠিক নয়।
তার ভাষায়, শরীরের ওজন একদিনে বাড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়তে শুরু করে। তাই শুধু একটি খাবার খাওয়ার কারণে ভুঁড়ি হয়ে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে তিনি বলেন, ক্যালোরির দিক থেকে সাদা ভাত পুরোপুরি নির্দোষও নয়। কারণ এটি একটি রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট। সাদা ভাত দ্রুত হজম হয়। ফলে খাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত খাওয়ার অভ্যাস যুক্ত হয়, তাহলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
ইন্দ্রাণী ঘোষ বলেন, এক কাপ ভাত আর এক বাটি ভাতের ক্যালোরি এক নয়। পরিমাণ যত বাড়বে, ক্যালোরিও তত বাড়বে। তাই যারা ভাতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ না করে বেশি খেয়ে ফেলেন, তাদের ক্ষেত্রে ভাত ওজন বৃদ্ধির একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুধু ভাত নয়, ভাতের সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি বেশি তেল, ঘি বা চর্বিযুক্ত তরকারির সঙ্গে ভাত খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে মেদ ও ভুঁড়ি বাড়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদ ইন্দ্রাণী ঘোষের মতে, সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইস তুলনামূলক ভালো বিকল্প। কারণ এতে আঁশ বেশি থাকে এবং এটি ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বাড়ে না।
তিনি বলেন, ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদান যোগ করলে ওজন বেড়ে যাওয়া বা ভুঁড়ি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। একই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়াও উন্নত হয়।
সবশেষে তিনি পরামর্শ দেন, কোনো একটি খাবারকে দোষারোপ না করে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সমন্বিত একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা উচিত। পাশাপাশি পরিমিত খাবার খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।