নিয়মিত তরমুজ খাচ্ছেন? ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে হতে পারে বিষক্রিয়া
গরম মৌসুমের অন্যতম দেশি ফল তরমুজ। রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। প্রতিবছর এর উৎপাদন বাড়ছে, যেমন বাড়ছে ক্রেতাদের চাহিদাও। তীব্র গরমে এক ফালি ঠান্ডা তরমুজ যেন মুহূর্তেই স্বস্তি এনে দেয়। শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি এটি ভিটামিন, খনিজ ও পানির ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই রসালো ফলটিই সঠিকভাবে না কিনলে বা সংরক্ষণ না করলে হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ।
বিশেষ করে কাটা তরমুজ কেনা বা দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে দেওয়ার মতো ছোট ছোট অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় তরমুজের ভেতরের শর্করা ও আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। ফলে সচেতন না হলে, এক টুকরো তরমুজই হতে পারে পেটের সমস্যা থেকে শুরু করে গুরুতর খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণ।
কেন তরমুজ থেকে হতে পারে বিষক্রিয়া?
বাজারে গেলে অনেক বিক্রেতা তরমুজ কেটে ভিতরের লাল অংশ দেখিয়ে থাকেন যাতে ক্রেতারা সহজেই বুঝতে পারেন ফলটি মিষ্টি কি না। আবার অনেকেই সময় বাঁচাতে গোটা তরমুজের বদলে কাটা অংশ কিনে আনেন। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বড় ঝুঁকি। কাটা তরমুজ খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে। অপরিচ্ছন্ন হাত, নোংরা ছুরি বা খোলা পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ রাখার কারণে তাতে সহজেই জীবাণু জন্মাতে পারে। গরমে এই জীবাণুর বৃদ্ধি হয় আরও দ্রুত, যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পানি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে পেটের ব্যথা, ডায়রিয়া বা বমির মতো সমস্যা।
কোন কোন জীবাণুর ঝুঁকি থাকে?
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকলে এ থেকে সালমোনেলা, ই. কোলাই ও লিস্টেরিয়া নামক বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এই জীবাণুগুলো সাধারণত অপরিষ্কার হাত, নোংরা ছুরি বা তরমুজের বাইরের অংশে থাকা ধুলাবালি থেকে ভিতরে প্রবেশ করে। অনেকেই ফল কাটার আগে ভালোভাবে ধোয়ার অভ্যাস না রাখায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
যেসব ভুলে বাড়ছে ঝুঁকি
তরমুজ কেটে বাজার থেকে নিয়ে আসা, ফল কাটার আগে না ধোয়া, দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া, প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বাইরে রাখা, অপরিচ্ছন্ন ছুরি বা হাত ব্যবহার করা। এসব ছোট ছোট ভুলই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
যেভাবে সংরক্ষণ করবেন
বাজার থেকে চেষ্টা করবেন কাটা তরমুজ না কিনে গোটা তরমুজ কেনার জন্য। পরে বাড়িতে এনে তরমুজের বাইরের অংশে থাকা ময়লা বা জীবাণু যেন ভিতরে না যায়, সেজন্য পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর কাটার সময় অবশ্যই হাত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন ছুরি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া এটি বেশি দিন রেখে খাওয়ার চিন্তা না করায় ভালো। ঘরের তাপমাত্রায় বেশি সময় রাখলে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। তবে, যদি সংরক্ষণ করতেই হয়, তাহলে কাটা তরমুজ বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখুন।
তরমুজ গ্রীষ্মের অন্যতম উপকারী ফল। তবে সঠিকভাবে না কিনলে বা সংরক্ষণে অবহেলা করলে এর উপকারিতাই পরিণত হতে পারে ক্ষতির কারণ। [সূত্র: আনন্দবাজার]