‘আয় হায়ে কী চাল’—কলেজে মেয়েদের হাতে টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন
বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন একসময় কলেজে ছাত্রীদের হাতে টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিরান্ডা হাউসে প্রবেশের সময় হোস্টেলের ব্যালকনিতে বসে থাকা ছাত্রীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘আয়ে হায়ে কী চলন!’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র (কেবিসি) মঞ্চে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। অমিতাভ বলেন, ওই ঘটনার মধ্য দিয়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রাস্তায় কোনো নারী এমন কটূক্তির শিকার হলে তাঁর কেমন অনুভূতি হয়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
কেবিসির সাম্প্রতিক একটি পর্বে অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সামনেই দিল্লির মিরান্ডা হাউসে যাওয়ার সময়কার পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেন অমিতাভ। ঘটনাটি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের একটা গম্ভীর কথা বলতে চাই... প্রথমবার যেদিন আমরা মিরাণ্ডা হাউসে ঢুকলাম, হোস্টেলের ব্যালকনিতে বসে থাকা সমস্ত মেয়েরা একযোগে বলে উঠল— ‘আয়ে হায়ে কী চলন!’
অমিতাভ জানান, ওই মন্তব্য শুনে তিনি বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন। তবে ঘটনাটি তাঁকে নারীদের প্রতি রাস্তায় করা কটূক্তির অভিজ্ঞতা ও মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল।
তিনি বলেন, ‘ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, যখন কোনও নারীর সঙ্গে এই ধরনের ইভটিজিং হয়, তখন তাঁর হৃদয়ে কী ঘটে। কারণ নিজের ওপর না ঘটলে কেউ সেটা অনুধাবন করতে পারে না। মিরাণ্ডা হাউসে পা দেওয়ার পর যখন ওটা শুনলাম, তখন আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী করব…।’
অমিতাভের কথা শুনে মাধুরী দীক্ষিত হেসে জানতে চান, এরপর তাঁরা কী করেছিলেন। জবাবে নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় অমিতাভ বলেন, ‘পালিয়ে গিয়েছিলাম, আর কী করব!’
এদিকে কেবিসির আরেকটি পর্বে অভিনেতা রণবীর কাপুরের সঙ্গে কথোপকথনেও নিজের পারিবারিক জীবনের একটি বিষয় তুলে ধরেছিলেন অমিতাভ। ‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রচারের সময় কেবিসির হটসিটে বসেছিলেন রণবীর। সেখানে তিনি অমিতাভকে প্রশ্ন করেন, ছোটবেলায় ছেলে অভিষেক বচ্চনের কোনো কাজ তাঁর পছন্দ না হলে তিনি কি সরাসরি ছেলেকে তা বলতেন, নাকি স্ত্রী জয়া বচ্চনের মাধ্যমে নিজের মতামত জানাতেন।
রণবীরের প্রশ্নের জবাবে অমিতাভ বলেন, বাইরে অনেক মানুষ সমালোচনা করার জন্য বসে আছেন। তাই ঘরের ভেতরে তিনি অভিষেকের আরেকজন সমালোচক হতে চাননি। বরং সব সময় ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছেন।
অমিতাভের ভাষায়, ‘বাইরে সমালোচনা করার লোকের অভাব নেই। তাই বাড়িতে আরও একজন সমালোচক থাকার দরকার নেই। আমি কখনোই অভিষেকের সমালোচনা করিনি, সবসময় ওকে আশীর্বাদ করেছি। বলেছি কোনো সিনেমা না চললে চিন্তা নেই, ভবিষ্যতে আরও অনেক কাজ আসবে।’