জুরাসিক পার্ক খ্যাত তারকা স্যাম নিল আর নেই
জুরাসিক পার্ক, দ্য পিয়ানো ও পিকি ব্লাইন্ডার্সের মতো জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের খ্যাতিমান অভিনেতা স্যাম নিল মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তার মৃত্যু হয়েছে এবং এটি ছিল হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত।
সোমবার (১৩ জুলাই) অভিনেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ২০২৩ সালে স্যাম নিল জানিয়েছিলেন, তিনি অ্যাঞ্জিওইমিউনোব্লাস্টিক টি-সেল লিম্ফোমা নামে বিরল ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত। তবে পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় তিনি ক্যান্সারমুক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে স্যাম নিল আর্ট ফিল্ম থেকে শুরু করে হলিউডের ব্লকবাস্টার সব ধরনের চলচ্চিত্রেই নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। স্টিভেন স্পিলবার্গের জুরাসিক পার্ক এ ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রে তার অভিনয় বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এছাড়া দ্য পিয়ানো, দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর, ওমেন থ্রি: দ্য ফাইনাল কনফ্লিক্ট, ইন দ্য মাউথ অব ম্যাডনেস এবং টেলিভিশন সিরিজ পিকি ব্লাইন্ডার্সে ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের উত্থানের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া শিল্পীদের অন্যতম ছিলেন স্যাম নিল। সেই প্রজন্মে পল হোগান, মেল গিবসন, জিওফ্রে রাশ, রাসেল ক্রো, জেন ক্যাম্পিয়ন, পিটার উইয়ার ও জিলিয়ান আর্মস্ট্রংয়ের মতো তারকারাও ছিলেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘তিনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন এই দেশে বলার মতো কোনো চলচ্চিত্র শিল্প প্রায় ছিলই না। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিউজিল্যান্ডের গল্প বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তার প্রতিভা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে আজকের অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ব্যঙ্গাত্মক ও নীরস, চিন্তাশীল ও স্বল্পভাষী স্যাম একই মর্যাদা, রসবোধ ও দৃঢ়তার সঙ্গে অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়েছেন, যা তার প্রতিটি অভিনয়কে শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হবে এবং তাঁকে দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে। তিনি শান্তিতে থাকুন।’
আরও পড়ুন : কেন জমে গিয়েছিল উত্তর মেরুর আগে দক্ষিণ মেরু, মিলেছে রহস্যের ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালে উত্তর আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া স্যাম নিল শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে চলে যান। তার জন্মনাম ছিল নাইজেল জন ডার্মট। পরে তিনি ‘স্যাম’ নামটি গ্রহণ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ডাকনামটি গ্রহণ করেছিলাম, কারণ মনে হয়েছিল এতে আমাকে কম হেনস্তার শিকার হতে হবে।’
নিউজিল্যান্ডের ডানেডিনে বেড়ে ওঠা নিল পড়াশোনা শেষে ১৯৭৭ সালে স্লিপিং ডগস চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় আলোচনায় আসেন। এটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর নিউজিল্যান্ডে নির্মিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের সেন্ট্রাল ওটাগো অঞ্চলে নিজের দ্রাক্ষাক্ষেত্র পরিচালনাও করতেন স্যাম নিল। বহুমাত্রিক অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের জন্য তিনি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।