১২ মে ২০২৬, ১৪:২২

আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, তখন নেটফ্লিক্সও আপনাকে দেখে

নেটফ্লিক্স লোগো  © সংগৃহীত

ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহ এবং সেই তথ্য বিক্রি করে ফায়দা লুটার অভিযোগ তুলে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। এছাড়া গুরুতর অভিযোগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে শিশুদের স্ক্রিন টাইমের প্রতি আকৃষ্ট করতে নেওয়া নেটফ্লিক্সের নানা কৌশল অবলম্বনের বিষয়টিও। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সোমবার (১১ মে) এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। 

মামলায় বলা হয়, বহু বছর ধরে নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের জানিয়েছে, তারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা শেয়ার করে না। অথচ বাস্তবে তারা দর্শকদের দেখার অভ্যাস, পছন্দ ও ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ডেটা ব্রোকারদের কাছে সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি নেটফ্লিক্স ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ ব্যবহার করেছে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে অটো প্লে ফিচার, অর্থাৎ একটি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরেকটি চালু হয়ে যাওয়া।

টেক্সাসের সেই কর্মকর্তার মতে, নেটফ্লিক্সের মূল লক্ষ্য ছিল শিশু ও পরিবারকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আটকে রাখা। আর সেই সময় তাদের তথ্য সংগ্রহ করা এবং পরে তা থেকে মুনাফা অর্জন করা। মামলায় আরও বলা হয়, আপনি যখন নেটফ্লিক্স দেখেন, তখন নেটফ্লিক্সও আপনাকে দেখে।

টেক্সাস কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব কার্যক্রম প্রতারণামূলক ব্যবসায়িক কার্যক্রমবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে। ইতোমধ্যে তারা নেটফ্লিক্সকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা তথ্য মুছে ফেলা এবং ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনে তথ্য ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া প্রতি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার জরিমানা করার কথাও বলা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে নেটফ্লিক্সের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘এই মামলা ভিত্তিহীন এবং ভুল ও বিকৃত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। নেটফ্লিক্স ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে গুরুত্ব দেয় এবং যেসব দেশে নেটফ্লিক্স পরিচালনা করা হয়, সেসব দেশের তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলে।’

উল্লেখ্য, ডার্ক প্যাটার্ন (Dark Pattern) হলো ওয়েবসাইট বা অ্যাপের এমন এক ধরনের প্রতারণামূলক ডিজাইন, যা ব্যবহারকারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু কিনতে, সাইন-আপ করতে বা ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য বা প্ররোচিত করে। এটি মূলত ইউজার ইন্টারফেস (UI) বা ইউজার এক্সপেরিয়েন্স (UX) কে কাজে লাগিয়ে গ্রাহককে বোকা বানানোর একটি অনৈতিক কৌশল।