১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

শেষ ৩ ঘণ্টায় কী ঘটেছিল শামস সুমনের সঙ্গে?

অভিনেতা শামস সুমন  © সংগৃহীত

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা শামস সুমনের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশের শোবিজ অঙ্গন। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে চিরবিদায় নেন তিনি। তার এই অকাল চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে শোকের মাতম, যেখানে বারবার প্রশ্ন উঠছে— মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল এই বরেণ্য অভিনেতার সঙ্গে?

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও শামস সুমনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অভিনেতা আবুল কালাম আজাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ভিডিও কলে শামস সুমনের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে আজাদ তাকে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এমনকি তিনি লোক পাঠিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললেও শামস সুমন আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি নিজেই যাচ্ছেন। কিন্তু সেই যাওয়াই যে শেষ যাওয়া হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

বিকেল পাঁচটার ঠিক পরেই শামস সুমনকে রাজধানীর গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে বেশ সচেতন দেখা গিয়েছিল। এমনকি তিনি নিজের পায়ে হেঁটে চলাফেরা করেছেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। অভিনেতা মাসুদ রানা মিঠু সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, "আমি গিয়ে দেখি ভাইকে এমআরআই রুমে নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজেই হেঁটে বের হয়ে এলেন এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। আমরা তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে আমরা পাশেই আছি। তখন তার হাসিমুখ দেখে মনেই হয়নি যে কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন বড় কোনো বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে।"

এমআরআই শেষ করে ড্রেসিংরুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন শামস সুমন। উপস্থিত সহকর্মীরা দ্রুত তাকে তুলে ধরার চেষ্টা করলে তিনি কাতর স্বরে ‘ও আল্লাহ, ও মা’ বলতে বলতে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তৎক্ষণাৎ তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালান। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানানো হয়, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

জীবনের শেষ সময়টা শামস সুমনের জন্য বেশ কঠিন ছিল। দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে থাকা এবং শারীরিক নানা জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতা তাকে ঘিরে ধরেছিল। স্ত্রী ও সন্তানেরা দেশের বাইরে থাকায় অনেকটা একাই জীবনযাপন করছিলেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতা জয় করে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা।