এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাবিপ্রবিতে নেই কমনরুম, ভোগান্তিতে নারী শিক্ষার্থীরা
প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) এখনো নেই কোনো কমনরুম। ফলে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরদূরান্ত থেকে ক্যাম্পাসে আসা নারী শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছেন।
দীর্ঘ ক্লাসের পর, বিরতিতে বিশ্রাম নেওয়া কিংবা অবসর সময় কাটানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে বা বসে সময় কাটাতে হয় তাদের। বিশেষ করে বিরতির সময় বিশ্রাম নেওয়া, ব্যক্তিগত সময় কাটানো ও নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন নারী শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাররমা খানম বলেন, ‘মেয়েদের জন্য আলাদা কমন রুম না থাকায়, যাদের বাচ্চা আছে তাদের বেবি ফিডিংয়ের সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, যা মায়েদের জন্য বেশ কষ্টকর। ক্লাস ফাঁকা থাকলে আম্মু আমার সঙ্গে বসে থাকতেন। আমার বন্ধুরা ও স্যারেরাও অনেক সহযোগিতাপরায়ণ ছিলেন। ক্লাস থাকলে কিছুটা সুবিধা হতো, কিন্তু ক্লাস না থাকলে বেবিকে নিয়ে হাঁটাচলা করা ও সময় কাটানো অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। তাই বেবি ফিডিং সহ অন্যান্য সবকিছুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও আলাদা ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি।’
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ভার্সিটির ১০ বছরের বেশি হয়ে গেল, কিন্তু এখনো ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কমন রুম নেই। একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এটা সত্যিই অনেক হতাশার বিষয়। ক্লাসের মাঝে বিরতি থাকলে বা কোনো কারণে একটু বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হলে আমাদের বসারমতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। অনেক সময় একটু স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্যও সমস্যায় পড়তে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে, শিক্ষার্থীদের এই সমস্যাটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার এবং দ্রুত একটি কমন রুমের ব্যবস্থা করার।’
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার জন্য নির্দিষ্ট স্থান থাকা দরকার। পাশাপাশি, দূরদূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের বিশ্রামের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা উচিত। ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, অসুস্থ হলে বিশ্রাম নেওয়া এবং পোশাক পরিবর্তন বা ঠিক করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে ছাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।’
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী নার্সি চাকমা বলেন, ‘রাবিপ্রবিতে কিছু সংকটের মধ্যে একটি হলো পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকা। ক্লাসের ফাঁকে বা অবসর সময়ে শিক্ষার্থীদের বসা, কিংবা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এতে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী করিডোরে দাড়িয়ে , সিঁড়ি কিংবা বিভিন্ন অনুপযুক্ত স্থানে বসতে বাধ্য হয়। অনেক সময় কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কিছুক্ষণ রেস্ট করার জন্যও উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলোজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা জুসি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন সকাল ৮টার বাসে ক্যাম্পাসে আসতে হয় এবং বিকেলে ছুটি হয়। ক্লাসের মাঝখানে দীর্ঘ অবসর সময় থাকলেও বসার বা বিশ্রাম নেওয়ার উপযুক্ত কোনো জায়গা নেই। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বেশি সমস্যাজনক। লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেখানে সবার বসার সুযোগ হয় না। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওজু করার জন্য পর্যাপ্ত ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যা কমন রুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে তাদের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক হবে।’
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক গৌরব চাকমা বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যা ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কমন রুম স্থাপন এর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত রয়েছে এবং বিদ্যমান সুবিধাসমূহ বৃদ্ধিতে সচেষ্ট রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নতুন বিশ্রামের জায়গা স্থাপন করা হয়েছে ও আরো কয়েকটি স্থানে বিশ্রামের জায়গা স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে একটি কমন রুম স্থাপনের জন্য স্থান সংকুলান এর চেষ্টা চলছে।