চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে অধ্যাপক দেলোয়ার, প্রতিবাদে কাল শাটডাউন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় যাওয়ায় তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার (২ নভেম্বর) এক দিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
এক ই-মেইল বার্তায় অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইউজিসির একটি সভায় অংশ নিতে উপাচার্য আগামীকাল ঢাকায় অবস্থান করবেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ই-মেইল বার্তা অনুযায়ী, গতকাল ১ নভেম্বর বিকেল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। আগামীকাল ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ ব্যাপারে উপাচার্য বলেন,' দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকা গমন করছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।'
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে আগামীকাল এক দিনের সর্বাত্মক একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের কথা বিবেচনা করে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাদের অবস্থান ছিল, নবনিযুক্ত উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য নিজে উপস্থিত না থেকে অন্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার এ প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। শাটডাউন চলাকালে সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করবেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর আমরা নিজেদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলাম। তবে আমাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কাল শাটডাউন ডেকেছি। আমরা চাই, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা হোক। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’