২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৩

আন্দোলনের ৩৪ দিন পর ‘শর্ত দিয়ে’ ক্লাসে ফেরার ঘোষণা চুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

চুয়েট লোগো ও আন্দোলন  © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে শর্তসাপেক্ষে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে ক্লাসে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা থেকেও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তারা আর এই ক্ষতি বাড়াতে চান না। দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান।

তবে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। এই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা সংঘাত বা অচলাবস্থা চান না। বরং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দাবি আদায় করতে চান। তাই একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ ও দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। তবে ক্লাসে ফেরা মানে আমাদের ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়। সায়েম স্যারের পুনর্বহালের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চাই।

এদিকে আজ দুপুরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির। 

তিনি বলেন, আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চায় বলে তারা জানিয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।

ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজভাবে নির্ধারণ করবে বলেও জানান সামিউন বাসির।

গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।