১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২

৯১ দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতল মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির প্রকল্প

গোল্ডেনরুটসের সদস্যরা  © সংগৃহীত

সুন্দরবন পুনরুদ্ধারে পাটের বোনা পরিবেশবান্ধব ‘বায়ো-শিল্ড’ ব্যবহারের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ‘গোল্ডেনরুটস’। ২০২৬ সালের ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডসের ‘দ্য লিভিং সি’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে প্রকল্পটি। গত ১৬ অক্টোবর আয়োজকদের লিংকডইন প্রোফাইলে প্রকাশিত ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গত ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস বন্দরে অবস্থিত আলতাসি (AltaSea at the Port of Los Angeles)-এ অনুষ্ঠিত হয় ওশানলাভ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে তিনটি বিভাগে বিজয়ী প্রকল্পের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ‘দ্য লিভিং সি’ বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) এর ‘গোল্ডেনরুটস’।

প্রকল্পটির পূর্ণ নাম ‘GoldenRoots: Jute-Weave Bio-Shields for Sundarbans Restoration’। এর নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক মো. আশিফ ইমাম খান। দলের অন্য সদস্যরা হলেন ফাহিম শাহরিয়ার রাজিন, সৈয়দা মেহেজাবিন সারা, মো. মাহবুবুর রহমান, এম এম মোহতাসিম ও মো. ফেরদৌস রানা। তারা সবাই একই বিভাগের শিক্ষার্থী।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার এবং উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা। এ লক্ষ্যে পাটের বোনা জীবাণুবিয়োজ্য উপকরণ দিয়ে বিশেষ ধরনের ‘বায়ো-শিল্ড’ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব কাঠামো পলি ধরে রাখতে এবং ম্যানগ্রোভের চারার প্রতিষ্ঠা ও বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সুন্দরবনের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রে পরিবেশবান্ধব পুনরুদ্ধারপদ্ধতির সম্ভাবনা যাচাই করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে মোট ৪৮৭টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৩০টি প্রকল্পকে ‘ওশানলাভ টপ ৩০ বুটক্যাম্পে’ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত করা হয়। সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় গোল্ডেনরুটস। বুটক্যাম্পে প্রকল্পের ধারণা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞ কোচদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর চূড়ান্ত বিচারপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে বিজয়ী হয় প্রকল্পটি।

পুরস্কার হিসেবে প্রতিটি বিজয়ী উদ্যোগ পাচ্ছে ১০ হাজার মার্কিন ডলার প্রাথমিক তহবিল, এক বছরের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ। এসব সহায়তা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এবারের প্রতিযোগিতার অন্য দুই বিভাগেও বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে। ‘দ্য ব্লু সার্কেল’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে গ্রোজেনিকসের ‘What If Sargassum Could Give Back?’ প্রকল্প। এতে সমস্যাজনক সারগাসাম সামুদ্রিক শৈবালকে জৈব পুনর্ব্যবহার ও কম্পোস্ট তৈরির মাধ্যমে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘দ্য ওয়েভমেকার্স’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে ‘GaiaOne Restoration Project’। প্রকল্পটির লক্ষ্য নারীদের পেশাগত প্রবাল পুনরুদ্ধার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

বিশ্বের ৯১টি দেশের ৪৮৭টি আবেদনের মধ্য থেকে বিজয়ী হয়ে গোল্ডেনরুটস বাংলাদেশের সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে পাটভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের ধারণাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপকরণ কাজে লাগিয়ে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।