১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৭

দুই মাস চেষ্টার পরও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করানো গেল না, অবশেষে প্রজ্ঞাপন বাতিল

অধ্যাপক ড. শাহ মোহাম্মদ আতিকুল হক  © টিডিসি সম্পাদিত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ পদে গত ১৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হককে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তবে নিয়োগের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। এরপর  দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে ওই পদে যোগদান করানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত ১৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নং শর্ত মোতাবেক এবং শাহ মো. আতিকুল হক, অধ্যাপক, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বাতিল করা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ এক কর্মকর্তার দাবি, উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হতে চেয়েছিলেন অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক। তবে প্রোভিসি পদে তাকে নিয়োগ না দিয়ে ভিসির পছন্দের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ কারণেই অধ্যাপক আতিকুল কোষাধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তাকে জয়েন করার জন্য বেশ কয়েকবার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু এতে সাড়া দেননি তিনি। 

নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং মন্ত্রণালয়েও ইমেইলের মাধ্যমে চিঠি দিয়েছি। আমি আসলে এই পদ চাই না। এই পদে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। আমি একজন অধ্যাপক হিসেবে যেখানে আছি, সেখানেই আমার কাজটি করে যেতে চাই।’ 

এর আগে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন অধ্যাপক শাহ মো. আতিকুল হক।

ওই  পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবাইকে বলছি, দয়া করে আমাকে অভিনন্দন জানাবেন না। এটি কোনো আনন্দের বিষয় নিয়ে লেখা পোস্ট নয়। আমি আপনাদের আরও জানাতে চাই যে, আমি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে এখনো যোগ দিইনি এবং যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমি আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘নানা জটিলতা ও মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার পর, আমার মনে হয়—যে কাজটিতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টি বোধ করি, সেটাই চালিয়ে যাওয়া শ্রেয়। একজন মানুষ হিসেবে আমি আমার সাধ্যমতো সেরাটাই করার চেষ্টা করি। ২০০৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যে কাজ শুরু করেছিলাম, তা আমি উপভোগ করি। তাই দয়া করে আমাকে অভিনন্দন জানাবেন না।’