১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৪৫

চুয়েটের নবনিযুক্ত উপাচার্যকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম, উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পদত্যাগ না করলে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২ এর সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিজের পদ ধরে রাখতে মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট টার্মিনালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা করান। নবনিযুক্ত উপাচার্য বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এ ঘটনায় তারা অধ্যাপক ড.শেখ শরীফুল আলমকে আর উপাচার্য হিসেবে বিবেচনা করছেন না। বরং তাকে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিহিত করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের উপাচার্য ভবন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা তা অমান্য করে ভবনের ভেতরে অবস্থান করায় শিক্ষার্থীরা ভবনটি তালাবদ্ধ করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন; কোনো সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘন তাদের উদ্দেশ্য নয়। কাউকে ভবনের ভেতরে আটকে রেখে হয়রানি করতেও চান না তারা। এ কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে উপাচার্যকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাদের প্রস্তাব, অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে হস্তান্তর করলে অথবা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে।

অন্যথায়, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানান আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, নিরাপদে বের হয়ে যাওয়ার এই সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে পরবর্তী পরিস্থিতির দায় উপাচার্যকেই নিতে হবে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান। সেখানে উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন তিনি। 

এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। যদিও এ সময়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বও দিয়েছেন। পরে উপাচার্য ভবনে ঢোকার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দিয়ে ফটকে তালা দিয়ে দেয়। এরপর বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলেও জানা যায়।