১২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫১

বাসে হামলার প্রতিবাদে চুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

চুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন  © টিডিসি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীবাহী বাস আটকে শিক্ষার্থীকে মারধর, বাসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে নগরের প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল পাঁচটার দিকে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে তারা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় চুয়েটগামী দুটি বাস আটকে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা হয়। এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল কুদ্দুস চৌধুরীকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর বাস দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে না পৌঁছেই ফিরে যায়। এ ছাড়া কুয়াইশ এলাকায় ট্রাক দিয়ে শিক্ষার্থীবাহী বাসের গতি রোধ করা হয়। পরে বিকাল সোয়া চারটার দিকে নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় শিক্ষার্থীবাহী আরেকটি বাসে হামলা চালানো হয়। এ সময় ‘যমুনা’ নামের বাসটির চালককে মারধর করা হয় এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘শরীফুল ভিসি তুই বের হ’, ‘অনলাইন ভিসি মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিতে আন্দোলন করছি। সেই আন্দোলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের বাস আটকে মারধর করা হচ্ছে, বাসচালকের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের আন্দোলন থামানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন উপাচার্যকে সরে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বা হল খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শানীন নাওয়ার বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, আমরা এই অনলাইন রাজনৈতিক ভিসি চাই না। আমরা সায়েম স্যারকে ফেরত চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন উপাচার্য আনসার সদস্যদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। পুরাতন চাঁদগাঁও ও বুড়িশ্চর এলাকায় চুয়েটের বাসে হামলা এবং মদুনাঘাট এলাকায় বাস আটকে রাখার ঘটনায় সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ চান তিনি।’

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সায়েমকে পুনর্বহাল ও নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন।