বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে শাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির ‘স্কলারভাই’
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ খোঁজা, আবেদন গোছানো এবং নিখুঁত ডকুমেন্ট তৈরির জটিল প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘স্কলারভাই ডটকম’ তৈরি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি। নির্মিত এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্ল্যাটফর্মটি দেশীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সুযোগ পেতে ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি সূত্রে জানা যায়, ‘স্কলারভাই ডটকম’ এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আপলোড করলেই এআই তা বিশ্লেষণ করে প্রোফাইল তৈরি করে দেবে। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে একাডেমিক জিপিএ, সিজিপিএ, আইইএলটিএস স্কোর, স্টাডি গ্যাপ এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের মতো বিষয়গুলো এই সিস্টেমে যুক্ত রয়েছে। ডাটাবেজে থাকা প্রতিটি স্কলারশিপের সাথে শিক্ষার্থীর প্রোফাইল মিলিয়ে কাস্টমাইজড ‘ফিট স্কোর’ প্রদর্শন করা হয় এবং কোনো যোগ্যতায় ঘাটতি থাকলে তা পূরণের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে আলাদা ‘ডোকুমেন্ট ওয়ার্কস্পেস’, যেখানে এআই-এর সহায়তায় সিভি কাস্টমাইজ করা যায়। এছাড়া স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) বা কভার লেটার মূল্যায়নের জন্য রয়েছে ‘ডোকুমেন্ট রেডিনেস স্কোর’, যা একজন ডিজিটাল মেন্টর হিসেবে ড্রাফটগুলো যাচাই করে পরামর্শ প্রদান করে। পাশাপাশি এআই ‘প্রফেসর আউটরিচ’ ফিচারের মাধ্যমে শিক্ষক বা প্রফেসরের গবেষণার বিষয় নিজে থেকে খুঁজে বের করে ইমেইল ড্রাফট তৈরি করে দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এতে ভেরিফায়েড এক্সপার্ট ও সাবেক শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য গাইডলাইন ও অ্যাপ্লিকেশন গাইড পাবেন।
এ বিষয়ে সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী তানভীর রহমান বলেন, ‘সঠিক তথ্য ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়। আমাদের প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য পুরো বিষয়টিকে সহজ করে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা। তবে আমাদের ভিশন শুধু স্কলারশিপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; ধাপে ধাপে আমরা আন্তর্জাতিক ইন্টার্নশিপ ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতাগুলোও যুক্ত করব, যাতে তথ্যের অভাবে কারো স্বপ্ন আটকে না যায়।’
উদ্যোগটি সম্পর্কে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই আমাদের রাজনীতি। এই গ্লোবাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্মটি আগামী দিনে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের চর্চা এবং দক্ষ প্রফেশনাল তৈরি করা। এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের শুধু স্কলারশিপের খোঁজই দেবে না, বরং আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করার একটি স্ট্রং ইকোসিস্টেম উপহার দেবে। টেকনোলজি ও ভিশনের এই মেলবন্ধন আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে আরও আত্মবিশ্বাসী ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস করি।’