১১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৬

চুয়েটে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের, আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা শিক্ষক সমিতির

চুয়েটের সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা  © টিডিসি ফটো

চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। এ দাবিতে টানা ২০ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতিও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

টানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির উত্থাপিত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সামিউন বাসির বলেন, ‘এ পর্যন্ত বিভিন্ন বর্ষের ১৫টি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ১২ কার্যদিবস ক্লাস নেওয়া যায়নি। বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে সরকারকে বিষয়টি যৌক্তিকভাবে সমাধানের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক সায়েম স্যারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা তার পুনর্বহাল চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, সেই বিষয়টিও জোরালোভাবে জানাচ্ছি।' 

সংবাদ সম্মেলন শেষে দুপুর দেড়টায় শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল উপাচার্য ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপাচার্য ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জানায়, সমিতির কার্যকরী পরিষদের (২০২৬-২৭) জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি (অতিরিক্ত দায়িত্বসহ) ও অবস্থান ধর্মঘট আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, সম্প্রতি চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে দুই দিনের জন্য উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। এ সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে দূর থেকে তথাকথিত ‘অনলাইন ভিসি’ কর্তৃক উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে মেনে নেননি, তার দেওয়া কোনো রুটিন দায়িত্ব বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চুয়েট ক্যাম্পাসে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।

অধ্যাপক আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব কেউ পেলে এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ হতো। উপাচার্যের পর কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা নোটিশের মাধ্যমে জানানো হতো। কিন্তু আমরা কোনো অফিস আদেশ পাইনি। কে দায়িত্ব পেয়েছেন এবং কত দিনের জন্য পেয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই।’

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, 'আমরা অফিসিয়ালি কিছু জানি না। আমিও ফেইসবুকে দেখলাম ওনি উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন।' 

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শরিফুল ইসলামকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতিতে যান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।