১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭

রাবিপ্রবির ক্যান্টিনে খাবারের বাড়তি দাম, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

রাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন  © টিডিসি ফটো

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবারের ভরসা ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন। তবে খাবারের মূল্য ও মানের মধ্যে মিল না থাকার অভিযোগ উঠেছে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তুলনামূলক বেশি দাম পরিশোধ করেও তারা প্রত্যাশিত মানের খাবার পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যান্টিনে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি হলেও খাবারের মান, স্বাদ, পরিমাণ ও মূল্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একই ধরনের খাবার বাইরের দোকানগুলোতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ক্যান্টিনে তা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি খাবারের মানও সবসময় প্রত্যাশা অনুযায়ী থাকছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল আবেদীন বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাবারের দাম বেশি। ক্যান্টিনে বিক্রি হওয়া ছোলা বুটের দাম ১৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হত। এ ছাড়া, খাবারের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় অনেক সময় ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার পাওয়া যায় না। ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল না থাকায় খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায়ই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করি।

ক্যান্টিন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা চাকমা বলেন, অন্যান্য দোকানের চেয়ে ক্যান্টিনের খাবারের মান অনুযায়ী দামটা বেশি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন হিসেবে খাবারের দাম আরও কম হওয়া উচিত ছিল। দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের খাবারের দামও শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। অথচ ক্যান্টিনের তুলনায় আশপাশের অন্যান্য খাবারের দোকানে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়।

ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ক্যান্টিনের খাবারের দাম একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সামর্থ্যের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে মনে হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় ক্যান্টিনটি ছোট হওয়ায় অনেক সময় বসার জায়গা পাওয়া যায় না। ছেলেমেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত ও সুশৃঙ্খল বসার ব্যবস্থা থাকলে ক্যান্টিনের পরিবেশ আরও সুন্দর হতে পারে। 

ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মহিমা আক্তার জানান, আমার কাছে ক্যান্টিনের খাবারের দাম কিছুটা বেশি মনে হয়। বিশেষ করে ভাত, মাছ, মাংস, নাস্তা ও ফাস্টফুডের দাম তুলনামূলক বেশি। আমার মনে হয়, ক্যান্টিনের খাবারের দাম সব শিক্ষার্থীর সামর্থ্যের মধ্যে নেই, তাই দাম কিছুটা কমানো উচিত। একই খাবার বাইরে খেলে দামের পার্থক্যও লক্ষ্য করেছি। কিছু খাবারের দাম বাইরে তুলনামূলক কম, আবার কিছু খাবারের দাম প্রায় একই রকম।

ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নেউন মারমা বলেন, খাবার স্বল্পতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী খেতে পায় না। মাঝেমধ্যে ক্যান্টিনে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেক সময় শিক্ষকদের জন্যও খাবার অবশিষ্ট থাকে না। ফলে তাদের দীর্ঘ সময় না খেয়েই ক্লাস নিতে হয়। অনেক সময় খাবার নিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দুপুরের খাবারের পর ক্যান্টিনে বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস রাখা হলেও এর পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এছাড়াও খাবারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী, যেমন খাতা, কলম ইত্যাদিও রাখা উচিত।

শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মাসে ক্যান্টিনের ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন খরচ বহন করতে হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাজারের দূরত্ব বেশি হওয়ায় মাছ, মাংস, শাকসবজিসহ রান্নার প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ হয়।

আরও পড়ুন: বই-খাতার ভাঁজে জমে থাকা দুশ্চিন্তা

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যান্টিনকে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় কি না জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ভর্তুকি দেওয়া হয় না। বরং আমাদের ক্যান্টিনের ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। ক্যান্টিনে নতুন স্ন্যাকস, কোল্ড ড্রিংকস, খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, জায়গার স্বল্পতার কারণে অতিরিক্ত পণ্য রাখার সুযোগ নেই।

খাবারের দাম অনেক শিক্ষার্থীর সাধ্যের বাইরে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী বিষয়টি জানালে তাদের জন্য অনেক সময় কম দামে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ক্যান্টিনের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তুকি দেওয়া হলে এবং প্রতিটি শ্রেণির সিআর নিয়মিত যোগাযোগ করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সম্ভাব্য সংখ্যা জানালে খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি ক্যান্টিনের বিভিন্ন সমস্যাও অনেকটা সমাধান করা সম্ভব।

ক্যান্টিনের খাবারের মান, মূল্য ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হয় কিনা, এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়া মনিটরিং কমিটির নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আহবায়ক ড. সুপ্রিয় চাকমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান দায়িত্ব গ্রহনের চিঠি উনাকে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তিনি এখনো তা গ্রহন করেননি।

ক্যান্টিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকায় ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের পক্ষে খাবারের চাহিদা নির্ধারণ করা কঠিন। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবে না বলে প্রশাসনকে জানিয়েছে। এ ছাড়া, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যান্টিন পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিনের সমস্যা সমাধানে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।