রুয়েটে আবাসিক হলে লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষার্থীরা
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবনির্মিত আবাসিক হল ছাত্র হল-১ এর ১০ তলা ভবনে দ্রুত লিফট চালুর দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের যাত্রা করেছেন হলটির শিক্ষার্থীরা। পাঁচশত শিক্ষার্থীর আবাসিক এ হলটিতে লিফট চালু না হওয়ায় ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ১০টা নাগাদ শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষে লিফট চালুর কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য হলটি চালু হলেও লিফট সচল না থাকায় দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন লিফট চালুর দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যত কোনো সুফল না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ।
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর হল শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদনপত্র নিয়ে রাতে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান না করায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদন গ্রহণ করেন। তিনি হল চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দেন।
আবেদনে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যে হলের লিফট সচল করতে প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। এতে বলা হয় নবনির্মিত ১০ তলা হল (ছাত্র হল-১) এ আবাসিক শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও লিফট এখনো চালু করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যাতায়াতের জন্য দিনে একাধিকবার হেঁটে নিচে নামা এবং আবার ওপরে উঠা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তীব্র গরম ও ক্লান্তিকর একাডেমিক চাপের পর সিঁড়ি বেয়ে বিভিন্ন তলায় ওঠা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিতে বা দ্রুত নিচে নামানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীর ফাহিম রহমান বলেন, ৮ তলায় উঠার কয়েকদিন এর মধ্যে আমার পায়ের পাতায় খুব ব্যথা হয়, এমন অবস্থায় ডাক্তার দেখালে তিনি পায়ে কোনো রকম প্রেসার দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু গত ২-৩ মাস ধরে প্রতিদিন ৩-৪ বার ওঠানামা করার কারণে আমি এখনো পায়ের এই সমস্যায় ভুগছি।
তিনি আরও বলেন, স্যারদের জানালে উনারা শুধু একই উত্তর দেন যে ঠিকাদার কাজ করে না, কিন্তু মেল হল ২ ও ১ এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই, তাহলে মেল হল ২ এ লিফট চালু হলেও আমাদের হল এ কেন হলো না? এইটা অবশ্যই রুয়েট প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও স্টুডেন্ট এর প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
আন্দোলন চলাকালীন দাবির বিষয়ে মুঠোফোনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড এইচ এম রাসেল। তিনি জানান, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই হলটিতে লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি হল সংক্রান্ত অন্যান্য অসুবিধার বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান ও সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।