০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৭

যবিপ্রবির হলে গোসলের সিরিয়াল নিয়ে সহপাঠীকে থাপ্পড়, ফাটল কানের পর্দা!

অভিযুক্ত তানভীর ও কাব্য  © সংগৃহীত

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল আল ইমরান। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। এ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার।

আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং প্রভোস্ট বরাবর অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি গোসলের জন্য ওয়াশরুমে ঢুকে একটি বালতি দেখতে পান। তিনি সেই বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক নামের এক শিক্ষার্থী এসে দরজায় বারবার টোকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বের হলে তানভীরের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি রুমে চলে যাওয়ার পর তানভীর তাঁর রুমে ঢুকে নানাভাবে হুমকি দেন। তাঁকে বলতে থাকেন, ‘আমি আগের মতো নেই, যদি আগের মতো থাকতাম, তাহলে তোকে এখন মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতাম।’

বিকেলের দিকে তাঁর বন্ধুদের পরামর্শে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে তাঁকে চায়ের দোকানে ডাকা হয়। তিনি সেখানে বিষয়টি মিটমাট করার জন্য যান। কিন্তু সেখানে উপস্থিত তানভীর, কাব্য ও অস্কার তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তানভীর তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিয়ে তাঁকে টেবিল থেকে ফেলে দেন। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে মেডিকেলে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর কানের বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে সুপারিশ করে দিয়েছেন। পরীক্ষা সম্পন্ন হলে পরবর্তী অবস্থা জানা যাবে।

অভিযুক্ত ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বের করে দিয়ে জুয়েল গোসলে যান। দরজায় নক করে কারণ জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। ঘটনাটি তাঁর কাছে খারাপ লাগে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পরে তাঁর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় বসেন। সঙ্গে তাঁর বন্ধুরা এবং জুয়েলেরও কিছু বন্ধু ছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। তাঁদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন। বিষয়টি গুরুতর দেখে তাঁকে দ্রুত সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিকভাবে জ্বর-সর্দির কিছু ওষুধ দেন। তাঁর কানে কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। শনিবার সকালে বিষয়টি জানতে পারেন।

ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, এটা আমাদের ব্যাচমেটদের বিষয়। বিষয়টাকে আমরা কথা বলার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। এজন্য আমরা সবাই একসঙ্গে বসি। কিন্তু সেখানে কথা বলার সময় হক তানভীর ইমরানকে কানে থাপ্পড় মারে। এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পরে আমরা ইমরানকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাঁর এক্স-রে করানো হয়েছে। এক্স-রের রিপোর্ট কী আসছে, সেটা আমার জানা নেই।

শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, আজ সকালে চিফ মেডিকেল অফিসার আমাকে বিষয়টি অবহিত করেন। আমি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ভুক্তভোগী ফার্মেসি বিভাগের জুয়েল আল ইমরান হলের ৪২৫ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী। গোসলের সময় অপর শিক্ষার্থী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তানভীর হকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তারপর তারা হলের বাইরে আমতলায় গিয়ে বিষয়টা সমাধানের চেষ্টা করে। কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হাত দিয়ে জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেয়। এর ফলে জুয়েলের কানে শ্রবণ সমস্যা সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে পুরো ঘটনা লিখিত আকারে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলেছি। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, আজ সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে আমি বিষয়টা জানতে পারি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে হওয়া পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত আকারে লিখিত অভিযোগের জন্য বলেছি। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। শিক্ষার্থী নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।