৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫

কুয়েটের ৪র্থ সমাবর্তনে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতিও দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে চূড়ান্ত তারিখ পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুয়েট উপাচার্যের সাক্ষাতের বিষয়টি বাসসের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য কুয়েটের বর্তমান একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

কুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়ে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন বলে কুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জাতীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন।

এ সময় জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈবপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাই জনকল্যাণে এ প্রযুক্তির পরিমিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।’

সাক্ষাৎকালে কুয়েটের ৪র্থ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান।

আরও দেখুন: রাত নামলেই মৃত্যুফাঁদ মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে

কুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে এবং পরে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

সাক্ষাৎকালে কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এম. এ. হাসেম, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. আশরাফুল গনি ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রফিক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, প্রফেসর ড. মোঃ রোকনুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ফারুক হোসেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ ইলিয়াছ ইনাম, প্রফেসর ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম, এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত মোস্তাক উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরের আগে বিআইটি, খুলনা থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৩ সালে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর ২০০৬ সালে প্রথম, ২০১২ সালে দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।