চুয়েটের সাবেক উপাচার্য ড. সায়েমের পক্ষে ১২ আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ অধ্যাপকের চিঠি
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন চলার মধ্যে তার পক্ষে লিখিত সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন অধ্যাপক। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের এসব শিক্ষকের চিঠিতে অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে তাদের গবেষণা, শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির ড. মোস্তাফিজ রহমান তার চিঠিতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন অনুদান প্রস্তাব তৈরিতে অধ্যাপক সায়েমের নেতৃত্ব ও পেশাদারত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার মার্ডক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএম শফিউল্লাহ তাঁর চিঠিতে জানান, অধ্যাপক সায়েমের উদ্যোগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে পিএইচডি বৃত্তির সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। পাশাপাশি চুয়েট ও মার্ডক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের রুপম দাস চুয়েট ও এক্সিটারের যৌথ এমএসসি কর্মসূচি, প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রকৌশল শিক্ষা নিয়ে প্রস্তাব এবং চুয়েটের শিক্ষার্থীদের পিএইচডির সুযোগ তৈরিতে অধ্যাপক সায়েমের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহাম্মদ রবিউল হোসাইন জানান, ২০০৩ সাল থেকে তিনি অধ্যাপক সায়েমকে চেনেন। বর্তমানে তাঁরা মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের চিকিৎসা ও সহায়ক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ গবেষণা করছেন। এ বিষয়ে মার্কিন ফেডারেল সংস্থায় যৌথভাবে অনুদানের আবেদন করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রশান্ত দত্ত ও অধ্যাপক নন্দিতা বিশ্বাস পৃথক চিঠিতে অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে তাঁদের একাডেমিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। অধ্যাপক প্রশান্ত দত্ত জানান, ২০১৯, ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৫ সালের আইসিএমইআরই সম্মেলনে অধ্যাপক সায়েমকে মূল বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
অধ্যাপক নন্দিতা বিশ্বাস তার চিঠিতে ২০২৪ সালে চালু হওয়া এসকেবি মেমোরিয়াল বৃত্তি এবং চুয়েটের পুরোনো লাইব্রেরি ভবনকে গবেষণাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগে অধ্যাপক সায়েমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন।
স্কটল্যান্ডের রবার্ট গর্ডন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মামদুদ হোসাইন ব্রিটিশ কাউন্সিলে জমা দেওয়া সমতা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি (ইডিআই) প্রকল্পের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির অধ্যাপক মাসুদ খান তাঁর চিঠিতে অধ্যাপক সায়েমের পিএইচডি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করে তাকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ তৈরিতে সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হুদা এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের ডিন অধ্যাপক আমান ও—যিনি অধ্যাপক সায়েমের সাবেক তত্ত্বাবধায়কদের একজন—তাঁদের চিঠিতে তাঁর শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব এগডারের অধ্যাপক সৌমেন রুদ্র তার চিঠিতে নরপার্টের অর্থায়নে পরিচালিত কেয়ার প্রকল্পে (২০২২–২০২৭) অধ্যাপক সায়েমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী ও ২০ কর্মীর বিনিময় কার্যক্রম চলছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া নরওয়েজীয় দূতাবাসের অর্থায়নে চুয়েটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও অধ্যাপক সায়েমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন উটাহ ইউনিভার্সিটির ড. মো. আবদুস সালাম সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি লিখে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অধ্যাপক সায়েমকে রাজনীতি-নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষক হিসেবে উল্লেখ করে চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।