নিচতলার দরজা খুলে দেখা গেল লিফট নেই, চতুর্থ তলায় আটকা ৪ ছাত্রী
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনে লিফটের ত্রুটিতে ফের ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিচতলায় লিফটের দরজা খুলে কেবিনের পরিবর্তে ফাঁকা জায়গা দেখা যায়। একই সময়ে ভবনের চতুর্থ তলায় একটি লিফট মাঝপথে আটকে চার ছাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী ভবনটির গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফট ব্যবহারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় বাম পাশের লিফটটি গ্রাউন্ড ফ্লোরে অবস্থান করছে দেখা যায়। পরে দরজা খুললে ভেতরে কোনো লিফটের কেবিন দেখা যায়নি। দরজার ওপাশে পুরো জায়গা ফাঁকা ছিল।
এর কিছুক্ষণ পর চতুর্থ তলায় একটি লিফট মাঝপথে আটকে পড়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারজন ছাত্রী লিফটের ভেতরে আটকা পড়েছেন। লিফটটি একটি ফ্লোরের মাঝামাঝি অবস্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আটকে ছিল। পরে তাদের ওই অবস্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ বলেন, ‘গ্রাউন্ড ফ্লোরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় বাম পাশের লিফটটি নিচতলায় দেখাচ্ছিল। পরে দরজা খুললে দেখা যায়, ভেতরে কোনো লিফট নেই, পুরো জায়গাটি ফাঁকা। পরে দেখা যায় চতুর্থ তলায় কয়েকজন ছাত্রী লিফটে আটকা পড়েছেন। সেখানে গিয়ে দেখি, লিফটটি ফ্লোরের মাঝামাঝি আটকে আছে। পরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তাদের হাত ধরে বের করে আনা হয়। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’
পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও লিফট আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। লিফটে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। অনেক সময় লিফট নির্দিষ্ট ফ্লোরে না থেমে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নেমে যায়। একটা লিফটে ডিসপ্লে স্ক্রিন না থাকায় লিফটের অবস্থানও সহজে বোঝা যায় না। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফট ব্যবহারে ভয় ও অস্বস্তি কাজ করে। আমি দ্রুত লিফটগুলোর পূর্ণাঙ্গ কারিগরি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় মেরামত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনটির লিফটগুলো দীর্ঘদিন ধরে ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় চালু রয়েছে। মাঝেমধ্যে লিফট বিকল হয়ে ব্যবহারকারীরা আটকা পড়েন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফট ব্যবহারে আতঙ্ক ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ শিক্ষার্থীদের লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাটি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়াজনিত সমস্যার কারণে হতে পারে বলে আমি মনে করি। এছাড়া লিফটে আরও কিছু কারিগরি ত্রুটি রয়েছে, যেগুলোর সংস্কার ও সমাধানের কাজ ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন। আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে।’