১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২২

মাভাবিপ্রবিতে চালু হলো স্মার্ট আইডি কার্ড, শিক্ষার্থীরা পাবে নানা সুবিধা

মাভাবিপ্রবির লোগো  © সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আইডি কার্ডের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ থাকলেও স্টুডেন্ট আইডি কার্ডে কেন নেই তার কোনো ছাপ বা আধুনিকতার ছোঁয়া। বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ডের মান নিম্নমানের হওয়ায় এটি অনেকের কাছে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড প্রাপ্তিরও প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং ভোগান্তিপূর্ণ। 

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইডিকার্ড সংস্করণ করে স্মার্ট আইডি কার্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্মার্ট আইডিকার্ড শিক্ষার্থীদের ধকল অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় প্রশাসনিক ভবনের ১ নম্বর সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণ ও ওয়েবপোর্টাল উদ্বোধনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়ার যাত্রা শুরু হচ্ছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিসুর রহমান।

এর আগে, আইডি কার্ড তৈরির দায়িত্ব হল প্রশাসন পালন করতো। হল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল-৫০ থেকে ১০০টি আবেদন জমা না হলে কার্ডের অর্ডার দেওয়া সম্ভব হয় না। 

তবে শিক্ষার্থীদের মতামত ছিল, ভর্তির সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একত্রিত করে সহজেই আইডি কার্ড তৈরি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, স্মার্ট আইডি কার্ডের অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের অসুবিধা তৈরি করে। আলাদা ক্ষেত্রগুলোর জন্য আলাদা আলাদা আইডি কার্ড না করে একটি স্মার্ট আইডি কার্ড দিয়েই সকল সুবিধা নিশ্চিত করা অনেক সহজসাধ্য। আমাদের দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট আইডি কার্ডের মাধ্যমে লাইব্রেরি থেকে বই নেওয়া বা অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যায়। ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশগ্রহণে উপস্থিতি নিশ্চিত করা,  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, স্কলারশিপ আবেদন বা বিশেষ সেবা গ্রহণ, পরিবহন, ক্যাফেটেরিয়ার, বই বা ফটোকপির দোকানে টাকা পরিশোধ, কর্মশালা, সেমিনার বা ইভেন্টে অংশ নিতে স্মার্ট আইডি কার্ডের ব্যবহার, বাইরের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সফর বা ইন্টার্নশিপের সময় ব্যবহার, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ভিসা আবেদন বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রমাণে ব্যবহারসহ একাধিক কাজ করা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সুযোগ ছিল না। আমাদের দিয়েই এই বিষয়টি শুরু হচ্ছে এবং আমরা আশাবাদী ধীরে ধীরে এতে নানা সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত হতে থাকবে।

এ বিষয়ে ২০২০-২১ শিক্ষার্থীবর্ষের লাইফ সায়েন্স অনুষদের এক শিক্ষার্থী জানান, অবশ্যই বিষয়টি এপ্রিশিয়েটিং। তবে আমরা দেশের অন্যতম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথচ আমাদের আইডিকার্ডে প্রযুক্তির ছোঁয়া পেতে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়াটা চিন্তার খোরাক জোগায়। আমরা যেহেতু এমন সুবিধা পাই নি তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর আমাদেরকে প্রতিটা সেবাক্ষেত্র থেকে আলাদা আলাদা কার্ডের জন্য দৌড় ঝাপ করতে হয়েছে। আমার অনেক বন্ধুকে দেখেছি তারা আবার সেই কার্ড হারিয়ে ফেলে পড়েছিলেন চরম বিপাকে। যেহেতু সব কিছুর ক্লিয়ারেন্স দেখানোর পর অনার্সের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। যেহেতু এখন স্মার্ট কার্ডের প্রচলন শুরু হচ্ছে এবং সকল সুবিধাসমূহ সামগ্রিকভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে, আশা করি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এরূপ ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না।

নতুন এই স্মার্টকার্ডে শিক্ষার্থীদের জন্য কি কি সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাভাবিপ্রবি আইসিটি সেলের পরিচালক আবু সাঈম মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, যে আইডি কার্ড শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে সেখানে ‘mifare desfire ev3’ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। যা একটা হাই ফ্রিকোয়েন্সি NFC compliant কন্টাক্টলেস স্মার্টকার্ড। এতে শিক্ষার্থীদের পরিচিতি মূলক তথ্যাদি স্টোর করা থাকবে। এটা 13.5 MHz ফ্রিকোয়েন্সিতে অপারেট করে বলে হাইলি সিকিউরড। 

‘NFC compliant’ হওয়ায় এটি দিয়ে অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, লগ মেইনটেইন করা যাবে। আর কার্ডে যেহেতু শিক্ষার্থীদের তথ্য থাকবে ফলে ক্লাসরুম, লাইব্রেরী, মেডিকেল সেন্টার, ক্যাফেটেরিয়া, পরিবহন, হল ইত্যাদি বহুবিধ ব্যবহার করা যেতে পারে। 

তবে, আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্ড দিয়ে শুধুমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় পেমেন্ট করা যাবে। শিক্ষার্থীরা অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট, কার্ড, বা যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস থেকে নিজের ওয়ালেটে অ্যাড মানি করতে পারবে এবং ক্যাফেটেরিয়ায় ক্যাশলেস ট্র্যানজেকশন করতে পারবে। 

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পর্যায়ক্রমে এই কার্ড দিয়ে অন্যান্য সেবা চালু করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।