১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৪

পুলিশ পরিচয়ে ফোন, বুটেক্সের একাধিক শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি ফাইল ছবি

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) একাধিক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতারকচক্রের পুলিশ পরিচয়ে ফোন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতারকচক্র নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যাবহার করে শিক্ষার্থীদের নাম, মুঠোফোন নম্বর, সহপাঠীর নাম, পারিবারিক তথ্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবার কখনো কখনো তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এসময়ে তারা 
শিক্ষার্থীদের মাদকসহ গ্রেপ্তার, থানায় নিয়ে যাওয়া কিংবা ক্যাম্পাস বা হল থেকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করার ভয় দেখিয়ে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এভাবে প্রতারনা করে  দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসহান খান সাম্য বলেন,"৪ সেপ্টেম্বর রাতে আমার বাবার মুঠোফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল করা হয়। ওই ব্যক্তি নিজেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, আমাকে ও আমার ব্যাচমেট সুমন সরকারকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়েছে এবং আমাদের দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে বলে জানায়। প্রথমে বিষয়টি বাবা বিশ্বাস না করলেও ফোনে আমার কান্নার মতো একটি কণ্ঠ শোনানো হলে বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।"

আসহানের দাবি, ওই কণ্ঠ তাঁর ছিল না এবং তিনি আরও জানান, "একপর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা প্রতারকচক্র দাবি করলে আমার বাবা পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। পরে আমার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে বাবা বিষয়টি প্রতারণা হতে পারে বলে বুঝতে পারেন। এরপর আর বাবা তাদের টাকা পাঠান নি এবং প্রতারকদের পক্ষ থেকেও আমার বাবার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা হয়নি।" 

অন্যদিকে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধর্ম দত্তও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, "গত মাসে দুপুরে একজন ব্যক্তি আমাকে ফোন করে নিজেকে পুলিশের সদস্য পরিচয় দেন। জাল টাকা লেনদেনের অভিযোগে আমাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানানো হয়।
তখন আমি ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে তিনি ভুল নম্বরে যোগাযোগ করেছেন। পরে ওই ব্যক্তি আমার হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটি নথি পাঠান। এর মধ্যে তাঁর কথিত পুলিশ পরিচয়পত্র ও একটি অভিযোগপত্র ছিল। এসব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। একপর্যায়ে আমাকে ২৭ হাজার টাকা দিতে বলা হয় এবং টাকা না দিলে হল থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। পরে ওই ব্যক্তির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা পাঠাই তাদের। পরে বিষয়টি আমি আমার বন্ধুুদের জানালে বুঝতে পারি প্রতারণার শিকার হয়েছি।"

আরও দেখুন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে আইনি সেবা সহজীকরণের তরুনদের উদ্যোগ

একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছিল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত দাশের পরিবারের সঙ্গেও। তাঁর মায়ের মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ঝিনাইদহ থানার কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দেওয়া হয়। সেইসময় প্রতারকচক্র তার ছেলের জামিনের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করে। সেসময় তিনি ছেলের সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন তার ছেলে গ্রেফতার হননি। ফলে তিনি টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। 

ভুক্তভোগীদের ধারণা, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে এসব প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রতারকদের কাছে গেল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুটেক্সের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, "শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। তাই তথ্য বাইরে প্রকাশের সুযোগ নেই।" থানায় অভিযোগ করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগীদের থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে আইনগত সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া প্রতারণা চক্রের হাত থেকে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।