রাজনীতি নিষিদ্ধ আবাসিক হলে ছাত্রদলের কর্মসূচি, উপস্থিত শাবিপ্রবি উপাচার্য নিজেই
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের সাপ্তাহিক ‘জিয়া পাঠচক্র’ আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা শাহপরাণ হলের টিভি রুমে ‘শহীদ জিয়া সাপ্তাহিক পাঠচক্র’র আয়োজন করে ছাত্রদলের একাংশ। আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সোহাগ, যুগ্ম সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ ও আফফান।
এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম ছাড়াও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শাহপরাণ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, সৈয়দ মুজতবা আলী হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আশরাফ সিদ্দিকী এবং বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ ফ ম জাকারিয়াসহ প্রশাসনের অন্যান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির ওপর কিছু শর্তে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শর্ত ছিল, ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের অনুমোদনক্রমে করা যাবে। তবে সকল অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন এবং আবাসিক হলসমূহে পূর্বের ন্যায় সভা ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে।
এমন সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও আবাসিক হলে দলীয় রাজনৈতিক পাঠচক্র এবং তাতে উপাচার্যের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও হলের নীতিমালার প্রতি প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মো. সোহাগ বলেন, রাজনীতি করা গণতান্ত্রিক অধিকার, এখান থেকে বের হওয়ার কারও ক্ষমতা নেই। অন্য সংগঠনগুলো হলে বিভিন্ন সময় প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রক্টরকে জানানো হয়েছে। অফিসিয়ালি চিঠি দেওয়া হয়েছে কিনা আমাকে দেখতে হবে।’
কর্মসূচির বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, ‘কর্মসূচির বিষয়ে অবগত আছি। তবে আমার পায়ে ব্যথা এবং পরিবারের সদস্যরা সিলেট আসার কারণে যেতে পারিনি। কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি নতুন কিছু শিখতে পারি, আমার মতে এগুলো করাই যায়। যে কোনো কল্যাণকর বিষয় করা উচিত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘প্রক্টর অফিস থেকে লিখিত কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি, দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। দ্বিতীয় বিষয় হলো, আবাসিক হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো প্রভোস্ট বডির আওতায়। তারা দেখবেন হলের অভ্যন্তরে কোন ধরনের কার্যক্রম হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রভোস্ট বডি ভালো বলতে পারবে, যতক্ষণ তারা আমাকে অবগত না করে আমি এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আসলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই, বিষয়টি আমি জানি না। আমার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি, মৌখিকভাবে বলেছে। ইনফরমালি বলেছে, তবে এটি এত দীর্ঘ সময় ধরে হবে বুঝতে পারিনি। পরে উপাচার্য স্যার চলে আসায় সেখানে আমার অনুমতি দেওয়ার কোনো বিষয় থাকে না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।