১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:১৭

চুয়েটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দুই সপ্তাহে শনাক্ত ৯

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র।  © টিডিসি ছবি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনেই ৩৭ জন ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে চুয়েটে ২৩ জন ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের ফল পজিটিভ আসে। আগস্টে পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭। ওই মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১১ জনের। আর সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৩৭ জন পরীক্ষা করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মাস অনুযায়ী বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সেপ্টেম্বর মাস শেষ হওয়ার আগে এই আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এ ব্যাপারে চুয়েটের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. খোরশেদুল আলম বলেন, আমাদের এখানে নিয়মিত রোগী আসছে। আমরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখি, টেস্ট করাই। অনেক সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে হলে শুধু চিকিৎসা নয়, মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও আশপাশের এলাকায় মশার উপদ্রব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, শুধু কেউ আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নয়, বরং মশার প্রজননস্থলগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।

এ বিষয়ে চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুসার আহমেদ বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। শুধু রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেই হবে না, ডেঙ্গুর উৎস নির্মূলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল মূলত মানুষের বসতবাড়ি ও এর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়। পানির ড্রাম, টিনের পাত্রসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এর অন্যতম উদাহরণ। বৃষ্টি হলেই এগুলোতে পানি জমে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে। তবেই মশার প্রকোপ থেকে বাঁচা সম্ভব।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, আবাসিক হল ও তার আশপাশের এলাকা সেই হলের নিয়ন্ত্রণাধীন। সে জন্য আমরা ইতোমধ্যেই সভা করে বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারা কাজ শুরু করছে। অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আগে আমরা সপ্তাহে একবার মশার ওষুধ দিতাম, এখন সপ্তাহে দুবার করে দেওয়া হবে।