১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৩

চাকরির প্রলোভনে টাকা নেওয়া, শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ হাবিপ্রবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

বিলকিস বানু ও হাবিপ্রবির লোগো  © সংগৃহীত

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে ওই কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে হয়রানি ও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন বলে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

ওই কর্মকর্তা হলেন হাবিপ্রবির খুরশীদ জাহান হক হলে ডেপুটি কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন বিলকিস বানু।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, ২০২২ সালে বিলকিস বানুর স্বামী তার কাছ থেকে নগদ টাকা ধার নেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই টাকা ফেরত না দিয়ে বিষয়টিকে চাকরির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। এ সময় তার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করানো হয়। এ সময় বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত তার মেয়ের চাকরি হয়নি।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাকরি না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ ও ছলচাতুরী করা হয়। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সঙ্গে বিলকিস বানুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং ওই শিক্ষক তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেন বলে তাকে জানানো হয়েছিল। তার বাড়িতে বসেই চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি নারী নির্যাতন ও চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যদিও টাকা দেওয়া দিয়ে চাকরি নেওয়া ঠিক না, কিন্তু আমি সেটা শুরু করি নাই। ওরা টাকা না দেওয়ার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করছে।’ তাঁর ভাষ্য, টাকা আদায়ই তার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদ গড়ে তোলার জন্যই তিনি অভিযোগ করেছেন।

এদিকে বিলকিস বানুর বিরুদ্ধে খুরশীদ জাহান হক হলে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে শাহরিয়ার জিহাদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে বিলকিস বানু বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও হয়রানির চেষ্টা করেছেন বলে অনেকবার অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

শাহরিয়ার জিহাদের দাবি, এ বিষয়ে তারা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং উপাচার্য বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিলকিস বানুর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

জাল সনদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ আছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সনদটি ২০০৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের, কিন্তু সনদটি ২০০৮ সালে তা উত্তোলন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিলকিস বানুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে তিনি বলেন, ‘আমি এখন একটা কাজে আছি, বাইরে আছি।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে দেখবে।’