দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর এমপির হস্তক্ষেপে মুক্ত গোবিপ্রবি উপাচার্য
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আর্কিটেকচার বিভাগে শিক্ষক সংকট নিরসন ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কে এম বাবরের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সোমবার সকাল থেকে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর প্রায় আট ঘণ্টা ধরে উপাচার্য তার দপ্তরেই অবস্থান করেন।
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফায় উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আলোচনা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। তবে দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আর্কিটেকচার বিভাগে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে একাধিক ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, পরীক্ষা মূল্যায়নসহ একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে অধিকাংশ ব্যাচ সেশনজটে পড়েছে বলেও দাবি করেন তারা। একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তারা জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবর। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।
এ সময় এমপি কে এম বাবর জানান, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১০ জন প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) যাবেন। সেখানে আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক সংকট ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরবর্তী করণীয়গুলোও তিনি নিজে তদারকি করবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।
এমপির এমন আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এতে প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ সোহেল হাসান। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।