১১ দফা দাবিতে রুয়েট সিএসই বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন
শিক্ষার্থীদের অধিকার ও একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিতসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিভাগের ভবনে ২১ থেকে ২৫ সিরিজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
দাবিগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রহণ না করা এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চলছে। শিক্ষার্থীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দাবিগুলো নিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের একাংশ আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সম্প্রতি বিভাগের কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, একাডেমিক অসামঞ্জস্য এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক মতামত উপেক্ষার প্রবণতা স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ও মানসিক স্বস্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থী মো. মেহরাব হোসাইনের আকস্মিক মৃত্যুর পর তার সহপাঠীদের মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, জোরপূর্বক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধ্য করার ঘটনায় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও দুঃখপ্রকাশ। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ ও ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, ক্লাস টেস্ট, সেমিস্টার ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে যথাযথভাবে বিবেচনা করা এবং ফলাফলে অবনতির কারণ বিশ্লেষণ করে আউটকাম বেইজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।
প্রশ্নপত্রে পাঠদানকৃত বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ ও সম্পূর্ণ নাম-পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলন চলাকালে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শহীদ উজ জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রশ্ন তার কাছে তুলে ধরেন। বিভাগীয় প্রধান শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করেন।
তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। প্রতিটি দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরসহ বিভাগীয় প্যাডে লিখিতভাবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে উপস্থাপনের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে লিখিত জবাব না পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।