১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১০

ইনোভেশন ফেয়ারে যবিপ্রবির পাঁচ উদ্ভাবন, নজর কাড়ছে গবেষকদের

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ যবিপ্রবির স্টল  © টিডিসি

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ পাঁচটি উদ্ভাবন নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি।

যবিপ্রবির উদ্ভাবিত এসব পণ্য ও প্রযুক্তি ইনোভেশন ফেয়ারে গবেষক ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ন্যানো-ইউরিয়া প্রদর্শনের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমতি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ও গবেষকদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ দেখা গেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলকে দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের চাওয়ার বেশি কিছু নেই। আমরা যেসব উদ্ভাবন করি, সেগুলোকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পর্যায়ে নেওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে উদ্ভাবিত পণ্য যেন সরাসরি বাজারে পৌঁছাতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা সরকারের জোরালো ভূমিকা আশা করছি।’

ইনোভেশন ফেয়ারে যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট পাঁচটি ইনোভেশন নিয়ে এখানে এসেছি। ভালো লাগার বিষয় হলো, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমতি পাওয়া তিনটি পণ্যের মধ্যে আমাদের একটি পণ্য রয়েছে। কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো-ইউরিয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফেয়ারে প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্টলে বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে জানতে প্রচুর গবেষক ভিড় করছেন। সরকারের কাছে আমাদের একটিই চাওয়া, গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত পণ্যগুলো যেন আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ন্যানো-ইউরিয়ার উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, ‘দেশের কৃষির কথা চিন্তা করে আমরা ন্যানো-ইউরিয়া উদ্ভাবন করেছি। ইনোভেশন ফেয়ারে প্রধানমন্ত্রী আমাদের পণ্য দেখেছেন এবং সব বাধা কাটিয়ে দ্রুত দেশের সব কৃষকের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ’ ও ‘নিজস্ব দেশীয় পণ্য’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, যবিপ্রবির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. কিশোর মজুমদার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল হাসান এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।