জাপান সরকারের মেক্সট স্কলারশিপ পেলেন ২ রুয়েট শিক্ষক
পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট স্কলারশিপ পেয়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) দুই শিক্ষক। তারা হলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আজমাইন ইয়াক্বীন সৃজন এবং সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিন্টু আলী। এ বৃত্তির আওতায় তারা জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাপান সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ কর্মসূচি মেক্সট স্কলারশিপ নামে পরিচিত। গবেষণায় শিক্ষার্থীদের প্রদত্ত এ বৃত্তির মাধ্যমে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বৃত্তিটি দূতাবাসের সুপারিশ অথবা জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
মেক্সট স্কলারশিপের অন্যতম বড় সুবিধা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি মওকুফ, নির্ধারিত শর্তে জাপানে যাতায়াতের বিমান ভাড়া এবং মাসিক ভাতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে জানা যায়, গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে নিয়মিত মাস্টার্স পর্যায়ে মাসিক ১ লাখ ৪৪ হাজার ইয়েন এবং ডক্টরাল পর্যায়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ইয়েন ভাতা নির্ধারিত রয়েছে; নন-ডিগ্রি গবেষণা শিক্ষার্থীদের জন্য তা ১ লাখ ৪৩ হাজার ইয়েন। বিশেষভাবে নির্ধারিত এলাকায় গবেষণা বা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়। তবে ভাতার পরিমাণ জাপান সরকারের বার্ষিক বাজেট অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।
রুয়েটের শিক্ষকতা পেশায় কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার পর উচ্চশিক্ষার এ সুযোগ পেয়েছেন দুই শিক্ষক। মো. আজমাইন ইয়াক্বীন সৃজন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিএসই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে রুয়েটে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
অন্যদিকে মো. মিন্টু আলী ২০১৭ সালের জুলাইয়ে সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনিও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মেক্সট স্কলারশিপ অর্জনের পর আজমাইন ইয়াক্বীন সৃজন নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করে তা দেশের শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ অর্জনের পেছনে পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, বন্ধু, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা, উৎসাহ ও দোয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বৃত্তির আবেদন থেকে নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য অধ্যাপক ড. মো. আল মেহেদী হাসানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আজমাইন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে চান।
মেক্সটের আওতায় জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রুয়েটের শিক্ষক দুই শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণা অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জাপানে অর্জিত জ্ঞান, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে রুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রেও ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।