০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৫

রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি

রাতে থানায় জিডি করেন জিশান আহমেদ (মাঝে)  © সংগৃহীত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) পরিবহন সংকট ও সড়কের কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে হোয়াটসঅ্যাপ কলে হুমকি দেওয়ায় রাঙ্গামাটি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাবিপ্রবি শিক্ষার্থী জিশান আহম্মেদ।
 
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে থানায় গিয়ে জিডি করেন জিশান আহমেদ। জিডিতে রাবিপ্রবির একজন নির্মাণ ঠিকাদার, চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা শেখ দিদারুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে মধ্যরাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাদী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে জানিয়েছিলেন, রাস্তার কাজ শেষ না হওয়া এবং চালক নিয়োগ না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো চালু করা যাচ্ছে না। সড়কের কাজ জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় জিশান এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। একপর্যায়ে তার নিজস্ব ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, নির্মাণ ঠিকাদারের কারণে হয়তো রাস্তার কাজ আটকে আছে।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ওই পোস্টের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটের দিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করেন। এ সময় তাকে কেন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, এ নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ করে জিশান।

জিশানের অভিযোগ, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে চাঁদাবাজ হিসেবে ট্যাগ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে বিষয়টি নথিভুক্ত রাখার জন্য থানায় জিডি করেছেন বলে জানান জিশান।

ভিডিও বার্তায় জিশান আরও বলেন, সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই তিনি প্রত্যাশা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. মো. ফখরুদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। একজন শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযোগকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ আকারে দেওয়া হয়েছে, আমরা আশা করি তারা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে। তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো পক্ষ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’