নতুন উপাচার্য নিয়ে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাবনা
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন মানেই শুধু প্রশাসনিক নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন পরিকল্পনা, নতুন সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের নতুন প্রত্যাশা। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতেও নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই এক প্রত্যাশার আবহ।
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। দীর্ঘ নৌ অভিজ্ঞতা, প্রকৌশল বিষয়ে একাডেমিক জ্ঞান, মেরিটাইম ও প্রতিরক্ষা অধ্যয়নে উচ্চশিক্ষা এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার জায়গাটিও বেশ বিস্তৃত; একাডেমিক কার্যক্রম থেকে গবেষণা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থেকে ক্যারিয়ার, সব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান পরিবর্তন চান তারা।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসি বিভাগের শিক্ষার্থী তাহিরা তাসনীম বলেন, ‘নতুন ভিসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত একাডেমিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নিয়মিত ফিল্ড ট্রিপ, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম ও ক্লাব কার্যক্রমের সুযোগ বৃদ্ধি করা। একটি ‘স্টুডেন্টস সাজেশন বক্স’ চালু করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় তাদের মতামত, সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা জানাতে পারবে এবং সেগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড অব ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অনির্বাণ নিলয় বলেন, ‘নতুন উপাচার্যের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি যেন শিল্প খাতের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে দক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের মেরিটাইম জনশক্তি তৈরি করে, এটাই আমার প্রত্যাশা। বিশেষ করে দেশের বিকাশমান অফশোর খাতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই যেন নেতৃত্ব দিতে পারে, সেই সুযোগ ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করা জরুরি।’
মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাত রেজওয়ানা বলেন, ‘আমি আশাবাদী নবনিযুক্ত উপাচার্য আমাদের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবেন এবং ফলপ্রসু ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। উপাচার্য স্যার আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ ত্বরান্বিত করতে উদ্ভুদ্ধ হবেন এবং ক্যাম্পাস অতিসত্তর স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসসমূহের গাঠনিক উন্নতির পরিকল্পনা ও বাস্তব উদ্যোগ নিবেন।’
পোর্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামীন আলম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে ছোট হলেও এর বিকাশ ও সম্ভাবনার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে অপার প্রতিভা প্রয়োজন শুধু একজন দূরদর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবেন। নতুন উপাচার্যের কাছে প্রত্যাশা, তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাঁদের সম্ভাবনা ও উদ্যোগকে উৎসাহিত করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার শিক্ষার্থীদের মেধা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনায়। ওশানোগ্রাফির শিক্ষার্থীরা গবেষণা, ফান্ডিং ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হলেও দেশের ব্লু ইকোনমিতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। নতুন উপাচার্যের কাছে প্রত্যাশা, তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বাড়াবেন এবং সীমাবদ্ধতাকে সম্ভাবনায় রূপ দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. শাহানুর রহমান মুকুট বলেন, ‘মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি দেশের অন্যতম শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে, এটাই নতুন উপাচার্যের কাছে আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। একটি মুক্ত, নিরাপদ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ক্যাম্পাসের পাশাপাশি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার প্রত্যাশা করি।’
সব মিলিয়ে নতুন উপাচার্যকে ঘিরে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেকটাই বাস্তবভিত্তিক। তারা শুধু নতুন কোনো ঘোষণা শুনতে চান না; বরং একাডেমিক কার্যক্রমে গতি, গবেষণায় অগ্রগতি, প্রশাসনে স্বচ্ছতা, ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চান।
তবে শিক্ষার্থীদের কথায় একটি প্রত্যাশা বারবার ফিরে আসে; নতুন নেতৃত্ব যেন শুধু একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা না করে, বরং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির একাডেমিক ও গবেষণাভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে সত্যিকার অর্থে একটি নতুন গতি তৈরি করে।