কুয়েটে শিক্ষার্থীকে মারধর ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সিই ২০ ব্যাচের রাহাতুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর, গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলপন্থী কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং সেখানেই ওই শিক্ষার্থীর পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি, বরং তিনি কোন কোন পেজ পরিচালনা করেন তা দেখার জন্য ফোনটি নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল ও শহীদ স্মৃতি হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইইই’২০ ব্যাচের তাহমিদুল হক তামিমকে বিদায় জানাতে শহীদ স্মৃতি হল থেকে প্রায় ২০–২২ জন বন্ধু ফুলবাড়ীগেট এলাকায় যান। রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে তামিমকে বিদায় জানানোর পর তারা ভ্যান যোগে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খানজাহান আলী হলের সামনে কুয়েট ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা ২২ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
পরে তিনি ভ্যান যোগে শহীদ স্মৃতি হলের সামনে পৌঁছালে ইএসই ২২ বিভাগের আল সাদ রাজিন, এলই ২২ বিভাগের লোটাস, ইসিই ২২ বিভাগের পীযূষসহ কয়েকজন তাকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি হলের গেটের সামনে চলে যান, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে বলে জানান।
রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘হল গেটের সামনে লোটাস ও পীযূষ তার গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক দূরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে এনসিপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার পাশাপাশি ‘চোর’ ও ‘নারী হেনস্তাকারী’ বলে চিৎকার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে টানাহেঁচড়ার সময় তার পরনের পাঞ্জাবি ও পায়জামা ছিঁড়ে যায়। একই সময়ে তার মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর তিনি হল প্রভোস্ট ও সহকারী হল প্রভোস্টকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ইএসই’২২ বিভাগের আল সাদ রাজিন বলেন, ‘কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এখানে মারামারির মতো কিছু হয়নি।’
পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়ে রাজিন বলেন, ‘হলের কেঁচি গেটের কাছে ধাক্কাধাক্কির সময় তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে গেছে।’
মোবাইল ফোন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ছিনতাই করার জন্য ফোন নেওয়া হয়নি। সে কী কী পেজ চালায়, সেটা চেক করার জন্য ফোন নেওয়া হয়েছিল। পরে ফোনটি ফেরত দিতে গেলে তার রুম বন্ধ পাওয়া যায়।’
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম জানিয়েছেন গত রাতে ছিনতাই হওয়ার পর আজকে দুপুর পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়নি।
শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু ইউসুফ বলেন, গতকাল রাতেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আমি একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আশা করি তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।