০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩২

শতভাগ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দিলেন নোবিপ্রবি অধ্যাপক

শতভাগ ক্লাসে উপস্থিত থাকা বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত বিশেষ স্মারক ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়।  © টিডিসি ছবি

ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি, নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রাহমান। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি চালু করেছেন ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে শতভাগ ক্লাসে উপস্থিত থাকা বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত বিশেষ স্মারক ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে। স্মারকের মধ্যে ছিল ক্যাপ, মগ ও পানির বোতল।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. মোস্তাকিম মিয়া, মো. রকিবুল ইসলাম রকি ও প্রীতম চন্দ্র কুরি; ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রাকিব হাসান, অলক দেবনাথ, আবদুর রহমান জুবায়ের ও মীর মুজাহিদুজ্জামান এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাসুদুর রহমান (সৈকত), মোসা. চম্পা খাতুন, আইরিন সুলতানা রিয়া, হাফসা আক্তার ও মেহেদী হাসান।

উদ্যোগটির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শিবলুর রাহমান বলেন, ‘জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে দেখেছি কিভাবে শৃঙ্খলা ও নিয়মকানুন বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো হয়। সেই অভিজ্ঞতার ইতিবাচক প্রভাব আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এ পদক্ষেপ। এ কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আর্থিক সহায়তা নেওয়া হয়নি; সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে এটি শুরু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে প্রতিটি সেমিস্টারে তাঁর নিজ কোর্সের ওপর ‘স্টুডেন্ট ইভালুয়েশন’ বা শিক্ষার্থী মূল্যায়ন চালু করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোর্স কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা হবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মো. মোস্তাকিম মিয়া বলেন, ‘শিক্ষাজীবনে শিক্ষকদের কাছ থেকে এরূপ স্বীকৃতি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। ১০০% উপস্থিতির এই সম্মাননা আমাদের ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও নিয়মানুবর্তী হতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

আরেক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী আবদুর রহমান জুবায়ের বলেন, ‘ক্লাসে উপস্থিতির জন্য এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার। এটি কেবল একটি উপহার নয়, বরং পড়াশোনার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল।’