০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৪

ইবিতে দেশীয় অস্ত্র মহড়া দেওয়া ১৯ জনের পরিচয় মিলেছে

দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া অন্তত ১৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।  © টিডিসি ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া অন্তত ১৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার এসব অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়।

ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ ও রাতুল জোর্দার, জিবলু ডেকোরেটর দোকানের মালিকের ছেলে সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদল সেক্রেটারি হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং ১০ম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।

এর আগে গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের নিচতলার করিডোরে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হল শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের ক্র্যাচে ভর দিয়ে যাওয়ার সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান তার সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে থাপ্পড় মারেন।

এ ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রভোস্টের কার্যালয়ের সামনে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আলীনুর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে দরজা আটকে দিলে সেখানে ভাঙচুর চালায় শিবির নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে গেলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রক্টর ও ইবি থানার ওসির ওপর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টরের গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনার পর ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। মিছিলের আশপাশে রামদা, ছুরি, চাপাতি ও জিআই পাইপ হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একই সময়ে জিয়া মোড়, লালন শাহ ও শাহ আজিজ হলের পকেট গেট এলাকায় লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয় শাখা শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়ার ছবি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ জানান, ঘটনার সময় আমি উদ্ধারকাজে ছিলাম। পরে গিয়ে কাউকে অস্ত্র হাতে পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিও ও ছবি দেখে অস্ত্রধারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।