দুই মাস ধরে বন্ধ যবিপ্রবির প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ
দুই মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অন্যতম প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ কাজের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ পথচারীরা। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী একাডেমিক কার্যক্রমে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যদেরও নিয়মিত চলাচল করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নকাজ চললেও এর অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় কবে নাগাদ সড়কটি স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহার উপযোগী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পুরোনো পিচ উঠে গিয়েছে। সড়কের মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় একাধিক গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেকটাই পানিতে পূর্ণ হয়ে আছে। ফলে পথচারীদের জন্য গর্তের অবস্থান বুঝে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরুর পরও দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। এতে প্রতিদিনই তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। কাজ শুরু হলেও বর্তমানে আবার বন্ধ রয়েছে। কেন কাজ বন্ধ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, নকশা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কি না তা জানি না। কয়েক দিন আগে বিকেলে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় দেখি, ডরমিটরি থেকে আসা এক শিক্ষক এর মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে পড়ে যায়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন।’
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, আবহাওয়ার কারণেই মূলত কাজটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
কাজের প্রয়োজনীয় সব মালামাল আগেই এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দেশ দিলেই ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে ভেজা আবহাওয়ায় কাজ করলে যানবাহন চলাচলের সময় পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতেই আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে।
উপপ্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুস সাকিব বলেন, কাজের অগ্রগতি থেমে থাকার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের কোনো অবহেলা নেই। রাস্তার পাশে রড, পিচসহ প্রয়োজনীয় উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাস্তার স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি গুণগত মান নিশ্চিত করতে টানা ১০ থেকে ১৫ দিন শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। তাই খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে কাজ শুরু করে ঝুঁকি নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে এবং কাজ শুরু করার পর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।