০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫

গোবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে সহকারী রেজিস্ট্রারের আইনি নোটিশ

রেজিস্ট্রার মো: এনামুজ্জামান ও সহকারী রেজিস্ট্রার সাজিদুর রহমান  © টিডিসি সম্পাদিত

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) এসএসডিএম বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার সাজিদুর রহমানকে উচ্চশিক্ষার অনুমতি না দেওয়া এবং অন্যায্য নিয়ম প্রয়োগ করে হয়রানি করার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: এনামুজ্জামান বরাবর আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তার পক্ষে গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ ইকবাল হোসেন এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।

নোটিশে জানানো হয়, সাজিদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিষয়ে মাস্টার্স কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেছিলেন। যেহেতু উক্ত কোর্সের শ্রেণী কার্যক্রম কেবল শুক্রবার ও শনিবার অর্থাৎ ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত হয়, সেহেতু এতে তার নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে কোনো ব্যাঘাত ঘটার বাস্তবসম্মত কারণ নেই।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার আবেদনটি যথানিয়মে নিষ্পত্তি না করে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ১৭ এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালার অহেতুক দোহাই দিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ধারা ১(৩) অনুসারে এই আইন সরাসরি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। যেহেতু গোবিপ্রবি নিজস্ব আইন ও সংবিধি দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান, তাই অপ্রযোজ্য আইন চাপিয়ে দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষায় বাধা সৃষ্টি করা প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতার পরিপন্থী।

এই নোটিশের মাধ্যমে সাজিদুর রহমানের উচ্চশিক্ষার আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী পুনর্বিবেচনা করা এবং সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ প্রয়োগের মাধ্যমে সৃষ্ট বাঁধা অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন মঞ্জুর না করার কোনো আইনগত কারণ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানো এবং এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। নোটিশ প্রাপ্তির সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি না করা হলে ভুক্তভোগী তার অধিকার রক্ষায় উপযুক্ত আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন বলেও এতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরও দেখুন: সংখ্যালঘু শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করা যাবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার মো: এনামুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি আইনি নোটিশের কথা, আমি ছুটিতে থাকায় এখনো হাতে পাইনি। সাজিদ ৪র্থ মাস্টার্সের আবেদন করেছে কিন্তু আইনে ২টার বেশি করতে পারবে না। উপাচার্য স্যার নতুন হওয়ায় আপাতত স্থগিত রাখতে বলেছেন। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় ৬ মাস পর নতুন কোর্স চালু হলে আবেদন করতে বলেছেন। আবেদন না করে উকিল নোটিশ হাস্যকর ব্যাপার। ২০০৬ থেকে আমি রেজিস্ট্রার সামান্য বিষয়ে এরকম আইনি নোটিশ আগে দেখিনি।’