প্রবলেম সলভিং থেকে গবেষণা, এরপর জাপানে মেক্সট স্কলারশিপ পেলেন সজীব
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই অ্যালগরিদমিক সমস্যা সমাধান ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি বিশেষ আগ্রহ ছিল সজীব কুমার রায়ের। একটি জটিল সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে কার্যকর সমাধান বের করার বিষয়টি তাকে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের দিকে আগ্রহী করে তোলে। দীর্ঘদিনের চর্চায় তিনি প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে কোডফোর্সেস স্পেশালিস্ট র্যাংক অর্জন করেন।
প্রোগ্রামিং ও সমস্যা সমাধানের এই চর্চাই পরবর্তীতে তার গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত সজীব বর্তমানে কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিক্ষেত্রে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার ভিশনের মাধ্যমে ফসলের রোগ নির্ণয়কে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
গবেষণার প্রতি আগ্রহের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে তার ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তার গবেষণার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কৃষি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ এবং বাস্তব জীবনের কৃষি সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান নিয়ে। প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধানের যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল, গবেষণায়ও সেটিই নতুন ধরনের সমস্যা বিশ্লেষণ ও সমাধানের ক্ষেত্রে কাজে লাগছে বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমানে সজীব কুমার রায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং ক্লাব (ভিইউপিসি)-এর মেন্টর হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ও অ্যালগরিদমিক সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করছেন। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
সজীব কুমার রায় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আমার প্রবলেম সলভিং করতে ভালো লাগত। কোনো একটি সমস্যাকে ভেঙে বিশ্লেষণ করে তার সমাধান বের করার বিষয়টি আমাকে সবসময় আকৃষ্ট করেছে। প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সেই আগ্রহ আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে গবেষণায়ও আমি মূলত বাস্তব সমস্যাগুলোকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করছি।’
এই দীর্ঘ একাডেমিক ও গবেষণার পথচলার পর এবার উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে যাচ্ছেন সজীব। তিনি জাপান সরকারের মেক্সট (মনবুকাগাকুশো) স্কলারশিপ অর্জন করেছেন ইউনিভার্সিটি ট্র্যাক-এর মাধ্যমে।
মেক্সট স্কলারশিপ হলো জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি বৃত্তি। এই বৃত্তির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পান। সাধারণত এতে টিউশন ফি, মাসিক ভাতা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যাতায়াতসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
ইউনিভার্সিটি ট্র্যাক-এর মাধ্যমে এমইএক্সটি স্কলারশিপ অর্জনকে নিজের গবেষণার পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছেন সজীব কুমার রায়। জাপানের উন্নত গবেষণা অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ফসলের রোগ শনাক্তকরণ নিয়ে তার বর্তমান গবেষণাকে আরও উন্নত ও বাস্তবমুখী করার প্রত্যাশা রয়েছে তার।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে সজীবের। তার মতে, প্রবলেম সলভিং থেকে শুরু হওয়া যাত্রা তাকে ধীরে ধীরে প্রোগ্রামিং, গবেষণা এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এনে দিয়েছে।