২৫ আগস্ট ২০২৬, ২১:৩০

‎রুয়েটের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি দেবে বিএসআরএম

রুয়েট প্রশাসন ও বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক  © টিডিসি ফটো

‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবৃত্তি চালু করছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (বিএসআরএম) ফাউন্ডেশন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে, ইতোমধ্যে রুয়েট প্রশাসন ও বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

‎‘বিএসআরএম-রুয়েট ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার স্কলারশিপ’ কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর রুয়েটের প্রথম বর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ১০ জন মেধাবী ও উপযুক্ত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। প্রত্যেকে বছরে ৬০ হাজার টাকা করে পাবেন। ফলে প্রতি বছর মোট ৬ লাখ টাকা বৃত্তি হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রাথমিকভাবে এ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎বৃত্তির ৬০ হাজার টাকার মধ্যে আবাসিক হলের ডাইনিং ব্যয় বাবদ প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বছরে ৩০ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট হলের ডাইনিং তহবিলে দেওয়া হবে। শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য ব্যয়ের জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে ৩ হাজার টাকা করে, অর্থাৎ বছরে ১২ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। বাকি ১৮ হাজার টাকা একাডেমিক নিবন্ধন ফি ও হল-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে রুয়েট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেওয়া হবে।

‎বৃত্তির প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মেধা, শৃঙ্খলা, অধ্যয়নের প্রতি নিষ্ঠা ও শেখার আগ্রহকে উৎসাহিত করা এবং পড়াশোনার শুরুর পর্যায়ে তাদের আর্থিক চাপ কমানো। পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষ, গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও পেশাগত মূল্যবোধ বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুয়েট ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থীর ফলাফল সমান হলে কম পারিবারিক আয়ের শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবেন। পারিবারিক আয়ও সমান হলে নারী শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপরও সমতা থাকলে লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত নির্বাচন করা হবে। তবে সরকারি বৃত্তি বা অন্য কোনো উৎস থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য বিবেচিত হবেন না।

‎বৃত্তি চালু রাখার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। প্রতিটি কিস্তি পাওয়ার আগে শিক্ষার্থীকে বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদিত অগ্রগতি প্রতিবেদন বৃত্তি বাছাই কমিটির কাছে জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রথম বর্ষের প্রথম পর্বের পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষার্থী এতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পর্বের বৃত্তির যোগ্যতা হারাবেন।

‎এ ছাড়া কোনো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কিংবা তার বিরুদ্ধে আইনগত বা শৃঙ্খলাজনিত মামলা হলে বৃত্তি বাতিল করা হবে এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী রুয়েটে তার ভর্তি বাতিল বা প্রত্যাহার করলে ইতোমধ্যে পাওয়া বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে।

‎সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি বিএসআরএম ফাউন্ডেশনের আর্থিক বরাদ্দ ও কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

‎বিএসআরএম ফাউন্ডেশন ও রুয়েটের এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের একাডেমিক উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা, পেশাগত মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রকৌশলী তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।