২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৬

শাবিপ্রবির হলে ধারাবাহিক চুরি, কাটা হয়েছে ১৫ কাপড়—৩ বিড়াল হত্যায় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

এভাবে কাপড় কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা  © টিডিসি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ভেতরে পোস্টার টাঙিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি, একের পর এক চুরির ঘটনা, ৩টি বিড়াল হত্যা এবং রাতের আঁধারে এক দিনে একই ফ্লোরে ১৫টি কাপড় কেটে ফেলার মতো ঘটনায় উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি সৈয়দ মুজতবা আলী হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় শুকানো ১০ থেকে ১২ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য কাপড় রাতের আঁধারে কেটে নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর কিছুদিন আগে একই তলার ওয়াশরুমে ৩টি বিড়ালকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একের পর এক এমন নৃশংস ও রহস্যজনক ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ভীতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিজয়-২৪ হলে গত ২ মাসে ৩টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি একই হলে গত মে মাসে দেয়ালে, বেসিনে এবং সিঁড়িতে প্রিন্ট করা কাগজ সাঁটিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আজাদ শিকদারকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে আরও দুই শিক্ষার্থীকে একই ধরনের হুমকি দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওই ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থী। সম্প্রতি এসব অভিযোগ উঠলে হলের প্রতি তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের সকল জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন: নতুন সূচিতে হবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গতকাল কাপড়গুলো ধুয়ে রুমের সামনের বারান্দায় শুকাতে দিয়েছিলাম। আজ সকালে কাপড় আনতে গিয়ে দেখি, কাপড়গুলো কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে রেখে গেছে। আমাদের ফ্লোরের আরও কয়েকজনের কাপড়ও একইভাবে কাটা হয়েছে। আমাদের রুম থেকে কয়েকদিন আগে ৫ হাজার টাকা চুরি হয়ে গিয়েছিল। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে গত রাতে তৃতীয় তলায় আমাদের ব্লকে রাতের আঁধারে ১৫টি কাপড় কেটে ফেলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমার রুমের পাঁচটি কাপড় কেটে ফেলেছে। এটা খুবই রহস্যজনক এবং ভীতিকর ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার কারণে আমরা অপরাধীকে শনাক্তও করতে পারতেছি না। আমরা চাই প্রশাসন যেন দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়।’

এই ব্লকের আরেকজন শিক্ষার্থী আবু খালেদ বলেন, ‘হল থেকে ল্যাপটপ, টাকা চুরি হয়েছে। কিছুদিন আগে ৩টা বিড়ালকে ওয়াশরুমে গলা কেটে হত্যা করেছে। গতকাল আবার এই ব্লকের শিক্ষার্থীদের কাপড় কেটে ফেলেছে। এটা খুবই উদ্বেগের। আজকে হলে এরকম হলে সামনে মানুষের যে ক্ষতি করবে না, এটার তো নিশ্চয়তা নেই। তাই আমরা চাই পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ও বর্তমান সিসি ক্যামেরাগুলোর অবস্থান কেবল সিঁড়িমুখী হওয়ায় অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে তারা বলেন, ‘বর্তমান সিসি ক্যামেরাগুলো কেবল সিঁড়ির দিকে মুভ করা। এগুলো কক্ষের করিডর ও ফ্লোরের দিকে ঘুরিয়ে পর্যাপ্ত নজরদারির ব্যবস্থা না করলে আমাদের নিরাপত্তা পুরোপুরি হুমকির মুখে থাকবে।’

আরও পড়ুন: টিএসসি নির্মাণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ ১৩ দাবি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের

বারবার ঘটে যাওয়া এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনার সঠিক তদন্ত, সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য হল প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছি। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে শুনেছি ৩টা বিড়ালের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। এখন আবার একই ব্লকে রাতের আঁধারে কাপড় কেটে ফেলে রাখছে। এটা খুবই গুরুতর ব্যাপার এবং উদ্বেগজনক। আমরা চেষ্টা করছি। দেখি কী করা যায়।’