গ্যাস সংকটে চুয়েটে লাকড়ির চুলায় রান্না, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
গ্যাসের তীব্র চাপসংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। বেশ কয়েকদিন ধরে ক্যাম্পাসের আবাসিক হল, ক্যান্টিন ও শিক্ষক আবাসন এলাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাস না থাকায় বন্ধ রয়েছে স্বাভাবিক রান্না। বিকল্প হিসেবে লাকড়ি ও সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন খাবার পরিবেশন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুয়েটের ছেলেদের ছয়টি ও মেয়েদের তিনটি আবাসিক হলে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ শিক্ষার্থীর রান্না হয়। কিন্তু লাইনে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম থাকায় চুলা জ্বলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অস্থায়ী লাকড়ির চুলায় চলছে রান্নার কাজ। এতে অতিরিক্ত তাপ, ধোঁয়া এবং রান্নার সময় দীর্ঘ হওয়ায় সময়মতো শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টি এলে বা লাকড়ি ভিজে গেলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এ বিষয়ে শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক ও শিক্ষার্থী তাহমিদ সুপ্ত জানান, গ্যাসের সংকটে রান্নার পুরো পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। লাকড়ির চুলায় শ্রম ও সময় বেশি লাগায় খাবারের মেন্যুও ছোট করতে হচ্ছে।
মেয়েদের হলগুলোতে ভোগান্তির মাত্রা আরও বেশি। তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থাপক ও শিক্ষার্থী সুনেহরা সুবাহ আফনান জানান, হলের বাইরে ত্রিপল টানিয়ে লাকড়ির চুলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জায়গাটি নিচু হওয়ায় ধোঁয়া বের হতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত গরম, ধোঁয়া ও বৃষ্টির মধ্যে নারী কর্মচারীদের কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি দুপুরে পরীক্ষা থাকার দিনে নির্ধারিত সময়ে খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে না খেয়েই পরীক্ষার হলে যেতে হচ্ছে।
শুধু রান্নায়ই না, বরং লাকড়ির চুলার ধোঁয়া ও এর ফলে তৈরি হওয়া গরম পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তাপসী রাবেয়া হলের আবাসিক এবং পুরকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত খানম বলেন, গ্যাসের সংকট থাকায় বর্তমানে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে রান্নার সময় হলে বেশি গরম ও ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি, তবে দীর্ঘমেয়াদে কম কষ্টকর ও আরও কার্যকর কোনো রান্নার ব্যবস্থা করা হলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে।
কেবল শিক্ষার্থীই নন, দুর্ভোগে পড়েছেন বাবুর্চি ও কর্মচারীরাও। রান্না করার সময় পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে শহীদ আবু সাঈদ হলের বাবুর্চি মো. আলমগীর বলেন, কয়েক শ মানুষের রান্না প্রতিদিন লাকড়ি দিয়ে করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। একদিন-দুদিন হলেও করা যায়। এভাবে প্রতিদিন লাকড়ি দিয়ে রান্না করা খুবই কঠিন।
হল ডাইনিংয়ের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের ক্যান্টিন ইজারাদার সজিব জানান, দিনের বেলা গ্যাস না থাকায় বাড়তি খরচে সিলিন্ডার কিনে নাস্তা ও খাবার তৈরি করতে হচ্ছে। এতে খরচও পড়ছে বেশি। তবুও শিক্ষার্থীদের জন্য করে যেতে হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবাসন এলাকাতেও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এব্যাপারে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাম্মৎ রোকসানা খাতুন বলেন, সারা দিন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।
গ্যাস সংকটের কারণ ও সমাধান প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ও পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেকুল আলম বলেন, মাতারবাড়ী থেকে গ্যাস সরবরাহে মূল সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এটি জাতীয় সংকট হওয়ায় পুরো দেশেই প্রভাব পড়েছে। জাতীয় পর্যায়ে ওই সমস্যার সমাধান হলেই চুয়েটেও গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হবে।