২১ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৫

নির্বাচনের পর দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে কয়েকগুণ, শক্তিশালী হয়েছে সিন্ডিকেট: শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম  © টিডিসি ছবি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, বিএনপি বলেছিল নির্বাচন হলে দেশের সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচনের পরও দেশের পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং খুনের রেশ একই আছে, চাঁদাবাজি কয়েকগুণ বেড়েছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের আয়োজনে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘বিএনপি বলেছিল নির্বাচন দিলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচনের পরে আমরা দেখেছি, খুনের যে রেশ ছিল, সেটি একই রকম আছে। চাঁদাবাজি তো লাফ দিয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সিন্ডিকেটও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দপ্তরে অযোগ্য লোক বসানো হয়েছে। এই অযোগ্য লোক দিয়ে বিএনপি যোগ্যতার মূল্যায়ন করছে না। বিএনপি যখন সিন্ডিকেট বন্ধ করতে পারে না, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, ঘুষ বন্ধ করতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই এসব অনিয়ম মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’

এর আগে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরকে কেবল উপভোগের সময় মনে না করে প্রথম বর্ষ থেকেই ক্যারিয়ারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দেশে এখনো যথাযথ টেকনিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রি-ভিত্তিক শিক্ষার সংকট রয়েছে। সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষার কারণে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়। এই অচল শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি আমরা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছি।

উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রস্তুতির বিষয়ে সাদ্দাম আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যেতে হলে ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রোগ্রামিংয়ের মতো সফট স্কিল অর্জন জরুরি। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণাপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির জন্য প্রথম বর্ষ থেকেই পরিকল্পিত একাডেমিক গ্রুপ স্টাডি গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

জানা যায়, নবীনবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৯টায় জামালপুর শহরের লুয়েজ ভিলেজ পার্কে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে স্নাতক প্রথম বর্ষের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রায় চারশত জন অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার হিসেবে পবিত্র কুরআন শরিফ, ইসলামিক বই, কলেজ ব্যাগ, কলমদানি, কলম, চাবির রিং ও দোয়ার স্টিকার দেওয়া হয়।

এদিকে ছাত্রশিবিরের এমন আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফিশারিজ বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা নয়, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের মাধ্যমে কীভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে হয়, তা আমরা এই আয়োজন থেকে শিখেছি। অতিথিদের প্রতিটি কথাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যদি এ দেশে আবারও অন্যায়ের পদচিহ্ন নেমে আসে, তবে আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ১০ বছরের ছোট্ট আনাসের মতো আমরাও দেশের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে পিছপা হব না।

আয়োজনে অংশ নেওয়া একজন নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদেরকে সবচেয়ে দামি উপহার হিসেবে পবিত্র আল-কোরআন দেওয়া হয়েছে, যা মানুষের সারা জীবনের মুক্তির পথপ্রদর্শক। মানুষ যত গভীর অন্ধকারেই যাক না কেন, কোরআন সাথে থাকলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। এমন একটি সুন্দর আয়োজনে জীবনের সঠিক পথগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ।’

জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফাহাদ আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হেলাল উদ্দিন রুবেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মুজিবুর রহমান।