মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে উচ্চশিক্ষার সাথে খুলছে চাকরির দুয়ার
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, জাপানি ভাষা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানের টোকিওভিত্তিক ‘ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার’-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাভাবিপ্রবির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদ। ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জাপানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও কারিগরি পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি শিক্ষা, জাপানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্কলারশিপ ও গবেষণার সম্ভাবনা, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও কর্মসংস্থান, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, মেন্টরিং ও পেশাগত দিকনির্দেশনা এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাডেমিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
এ ছাড়া দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যৌথ সেমিনার, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এর আওতায় আগ্রহী মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ দেবে ইয়োমিকাতা জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টার। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ‘Japanese-Language Proficiency Test (JLPT)’ প্রস্তুতির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা জাপানে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ও অ-একচেটিয়া চুক্তি। ফলে এর মাধ্যমে কোনো পক্ষের ওপর আর্থিক বা আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো মতবিরোধ দেখা দিলে তা পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া ৯০ দিনের লিখিত নোটিশের মাধ্যমে যেকোনো পক্ষ সমঝোতা স্মারকটি বাতিল করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, ভাষা শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।