১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯:২৭

ছাত্রদলপন্থি দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১৫২ একরে ১৫২ বৃক্ষরোপণ

রুয়েটে ছাত্রদলপন্থি দুই শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১৫২ একরে ১৫২ বৃক্ষরোপণ  © টিডিসি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০ সিরিজের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫২ একর ক্যাম্পাসে ১৫২টি চারাগাছ রোপণ করেছেন ছাত্রদলপন্থি দুই শিক্ষার্থী। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আরেফিন আহমেদ আজমি ও আরাফ মাসুদ দিপ্রর উদ্যোগে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

দুই আয়োজক ছাত্রদলের কোনো পদে না থাকলেও ক্যাম্পাসে তারা ছাত্রদলের আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে। ২০ সিরিজের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি রুয়েটের সবুজ পরিবেশ সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুয়েটের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫২টি চারাগাছ রোপণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫২ একর আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৫২টি গাছ রোপণের মাধ্যমে নিজেদের ব্যাচের একটি স্থায়ী স্মৃতি রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা।

আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে ছাত্রদলের আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চারাগাছগুলো রোপণ করা হয়।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী আরেফিন আহমেদ আজমি বলেন, স্নাতক শেষ করলাম। ক্যাম্পাস থেকে কিছুদিন পর চলে যাব। ক্যাম্পাসে স্মরণীয় কিছু করে রাখতে আমাদের এই কার্যক্রম। ১৫২ একরে ১৫২টি গাছ সবুজের সমারোহ ছড়াবে, তীব্র তাপদাহে ছায়া দেবে, ঠান্ডা বাতাস পাবে আমার ক্যাম্পাসের সবাই। 

এ বিষয়ে আরেক ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী আরাফ মাসুদ দিপ্র বলেন, ১৫২ একরের এই ক্যাম্পাসে ১৫২টি গাছ রোপণের মাধ্যমে আমাদের ব্যাচের একটি স্মৃতি রেখে যেতে চেয়েছি। আমরা হয়ত একদিন এই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব, কিন্তু এই গাছগুলো বেড়ে উঠবে এবং আমাদের স্মৃতিকে ধারণ করবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশকে আরও সবুজ ও সুন্দর করাও আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব বিবেচনা করেই আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ থেকেও আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি। নির্মাণকাজসহ নানা কারণে ক্যাম্পাসের যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটা হারিয়ে গেছে, সেটি ফিরিয়ে আনতেও ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আরও বেশি প্রয়োজন।

এদিকে, রুয়েটের নির্মাণকাজের কারণে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রুয়েটে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক কমিটি না থাকলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।