১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪৯

সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন, দোষীদের বিচার দাবি

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা।  © টিডিসি ফটো

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন হয়। 

কর্মসূচি শেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এশিয়ান পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের নোবিপ্রবি প্রতিনিধি এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা গতকাল (১৮ আগস্ট) ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দ্বারা দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের ওপর হামলা ও হেনস্তার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংগঠনের শৃঙ্খলা অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে সক্রিয় ৩৩ জন সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে একযোগে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

​মানববন্ধনে দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি অন্যতম কারণ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুরুতেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা ঘোলাটে হতো না। এটি সংশ্লিষ্টদের প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক ব্যর্থতা। আমরা প্রশাসনকে স্পষ্ট বলতে চাই—সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হতে হবে, ক্যাম্পাসে মুক্ত সাংবাদিকতার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

​ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছরে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে অপসংস্কৃতি দেখেছি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর যদি সেই একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের কাছে ঘটনার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও ফুটেজ রয়েছে, যা আমরা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা না নিলে ক্যাম্পাসে আবারো অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা দেখা দেবে।’

​মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪-এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ এবং মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি।